US-Iran War

পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে শান্তিবৈঠকে কেন যোগ দিচ্ছে না ইরান? পাঁচ কারণ জানিয়ে দিলেন মোজতবা খামেনেইরা

ইরান জানিয়ে দিল যে, ইসলামাবাদে আমেরিকার সঙ্গে শান্তিবৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। কেন তারা এই বৈঠকে শামিল হতে চাইছে না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে তেহরান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৭
(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সঙ্গে শান্তিবৈঠকে বসতে সোমবার সন্ধ্যাতেই পাকিস্তানে পৌঁছে যাবে আমেরিকার প্রতিনিধিদল। তার আগেই ইরান জানিয়ে দিল যে, ইসলামাবাদের শান্তিবৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। কেন তারা এই বৈঠকে শামিল হতে চাইছে না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে তেহরান। তাদের তরফে মূলত পাঁচটি কারণের কথা বলা হচ্ছে।

Advertisement

কারণগুলির কথা অবশ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই কিংবা রেভলিউশনারি গার্ডের তরফে জানানো হয়নি। পাঁচ কারণের কথা জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ় এজেন্সি (আইআরএনএ)। তবে আইআরএনএ-র দাবি বা বক্তব্যকে সাধারণ ভাবে তেহরানের সর্বোচ্চ প্রশাসনের মত হিসাবেই ধরে নেওয়া হয়। এই যুক্তিতে মনে করা হচ্ছে, শান্তিবৈঠক নিয়ে ইরানের মতামতই তুলে ধরেছে ওই সংবাদসংস্থা।

সোমবার আইআরএনএ-র তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক নিয়ে যে খবর ছড়াচ্ছে, তা মিথ্যা।” ওই সংবাদসংস্থা শান্তিবৈঠকে যোগ না-দেওয়ার যে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেছে, সেগুলি হল— ১) আমেরিকার অতিরিক্ত দাবিদাওয়া, ২) ইরানের কাছ থেকে অযৌক্তিক এবং অবাস্তব প্রত্যাশা, ৩) বার বার অবস্থান বদল করা, ৪) স্ববিরোধী অবস্থান নেওয়া এবং ৫) যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ় প্রণালীতে আমেরিকার তথাকথিত অবরোধ চালিয়ে যাওয়া।” ইরান মনে করছে, এই সমস্ত কারণেই গঠনমূলক আলোচনা সফল হবে না। আলোচনা ফলপ্রসূ না-হওয়ার কারণ হিসাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি-হুঁশিয়ারিকেও দায়ী করেছে তেহরান।

তেহরানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইরানের ওই সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ইরানকে দোষারোপ করে এবং একপাক্ষিক ভাবে দ্বিতীয় পর্বের শান্তিবৈঠকের কথা ঘোষণা করে চাপের রাজনীতি করছেন ট্রাম্প।

রবিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে (ভারতীয় সময় অনুসারে) সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি জানান, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তিবৈঠকে বসতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সোমবার সন্ধ্যাতেই পাকিস্তানে পৌঁছে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। ওই পোস্টে ট্রাম্প এ-ও জানান যে, সংঘাত থামাতে ইরানকে ‘খুবই স্বচ্ছ এবং যৌক্তিক বোঝাপড়ার’ প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। এই প্রস্তাবে সম্মত না-হলে ফের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুতে হামলা করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প লেখেন যে, যদি ওরা বোঝাপড়ায় না-আসে, তা হলে সম্মানের সঙ্গে সেটাই করব, যা করা প্রয়োজন। গত ৪৭ বছর ধরে এই কাজ অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের করার কথা ছিল।”

গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা হয়েছিল। প্রায় ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পরে কোনও সমাধানসূত্র ছাড়াই তা শেষ হয়েছিল। এ দিকে দু’দেশের মধ্যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে। আগামী বুধবার আমেরিকা-ইরানের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন