ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা। ছবি: সংগৃহীত।
এ বার ইরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে। শনিবার ভোরে পর পর জোরালো বিস্ফোরণ হয় মেহরাবাদ বিমানবন্দরে। বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দর থেকে আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে আগুন এবং কালো ধোঁয়া (যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে। ছাড় দেওয়া হয়নি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলিকেও। বেশ কয়েকটি যাত্রিবাহী বিমান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বিমানবন্দরটি তেহরানের মূল বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকে বড় মাপের হামলা শুরু করেছে ইজ়রায়েল। সে দেশের সরকারি সংবাদপত্রে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন প্রান্তে এই হামলা চালানো হয়েছে। শুধু তেহরানই নয়, কেরমানশাহ শহরেও হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। এখানেই ইরানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটি রয়েছে। সেই ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবারেই তেহরানে মুহুর্মুহু হামলা চালায় ইজ়রায়েল। তাদের বায়ুসেনা জানিয়েছে, ৫০টি যুদ্ধবিমান একযোগে তেহরানে সামরিক এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের লুকোনোর জন্য যে বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছিল, সেই বাঙ্কারেই হামলা চালানো হয়েছে। এই বাঙ্কার তৈরি করা হলেও সেখানে আশ্রয় নেওয়ার আগেই খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি ইজ়রায়েলের। খামেনেইয়ের সবচেয়ে সুরক্ষিত সেই জায়গাকে ধ্বংস করে ইজ়রায়েলি বায়ুসেনা।
ইজ়রায়েলের দাবি, তেহরানের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বাঙ্কার। অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই বাঙ্কারগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বার সেগুলিকে নিশানা করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এই গোপন বাঙ্কারগুলির হাল-হকিকত জানতে ইজ়রায়েলি গোয়েন্দারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে এক এক করে সেই বাঙ্কারগুলি ধ্বংসে কাজ শুরু করল ইজ়রায়েল।