(বাঁ দিকে) জামাত প্রধান শফিকুর রহমান এবং খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান (ডান দিকে)। রয়েছেন দুই দলের অন্য নেতারাও। বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলশানে। ছবি: সমাজমাধ্যম।
আরও এক বার সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-র সঙ্গে জোট করার বার্তা দিল ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ (‘জামাত’ নামেই যা পরিচিত)। দলটির প্রধান শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সমবেদনা জানান। ঢাকার গুলশানে বিএনপি দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশের স্বার্থে বিএনপি এবং জামাত ‘মিলেমিশে কাজ’ করতে পারে। তারেক এবং বিএনপি নেতারাও একই মত ব্যক্ত করেছেন বলে দাবি করেন শফিকুর।
মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী কট্টরপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে পরিচিত জামাত। এক সময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধও হয়েছিল এই সংগঠনটি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিএনপির সহযোগী হিসাবে ক্ষমতায় ছিল জামাত। পরবর্তী সময়ে দু’দলের গাঁটছড়া ছিন্ন হয়। বৃহস্পতিবার তারেকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামাতের প্রধান বলেন, “অতীতে একসঙ্গে (বিএনপির সঙ্গে) কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও করব।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “পাঁচটা বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে, আমরা সবাই মিলেমিশে ভাল কোনও চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার। আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পর পরই সরকার গঠনের আগেই আমরা বসব, খোলা মনে কথা বলব। জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব, জাতির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
শফিকুরের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ভোটের আগে জোট না-হলেও, নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে চান তাঁরা। কয়েক দিন আগেই সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামাত প্রধান বলেছিলেন, “আমরা ন্যূনতম পাঁচ বছর একটি স্থিতিশীল জাতি দেখতে চাই। সেই লক্ষ্যে যদি রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হয়, তা হলে আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।’’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনেই এক দফায় নির্বাচন হবে । ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। জাতীয় সংসদের নির্বাচনে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশের গড়া রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-সহ আটটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে জামাত। কয়েকটি প্রাক্-নির্বাচনী জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, নির্বাচনে বিএনপি প্রথম এবং জামাতের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ, পরিস্থিতি এরকম থাকলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামাতই হতে চলেছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল। তবে বিরোধী আসনে না-বসে জামাত বিএনপির হাত ধরতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে পাকিস্তান সেনার পক্ষে কাজ করেছিলেন। রাজাকার ঘাতকবাহিনীর নেতা হিসাবে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে দলের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। হাসিনা জমানায় কয়েক জনের সাজাও হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। ২০১৩ সালে জামাতের ভোটে লড়ার উপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট জামাতের নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করেছিল। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সরকার ‘মৌলবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধী’ জামাত এবং তাদের শাখা সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ৫ অগস্ট বাংলাদেশে পালাবদলের পরে বদলে যায় পরিস্থিতি। এখন তারা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অন্যতম চালিকাশক্তি’ হিসাবে পরিচিত। সম্প্রতি ঢাকা, জাহাঙ্গিরনগর, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির।