Masood Azhar

জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের দাদার রহস্যজনক মৃত্যু পাকিস্তানে! কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা, দাবি রিপোর্টে

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার তাহিরের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই দিনই স্থানীয় সময় রাত ১১টায় বহওয়ালপুরে জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০
জইশ জঙ্গি প্রধান মাসুদ আজহার। ফাইল চিত্র।

জইশ জঙ্গি প্রধান মাসুদ আজহার। ফাইল চিত্র।

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের দাদা মহম্মদ তাহির আনওয়ারের দেহ উদ্ধার হয়েছে পাকিস্তানে। তবে তাঁর কী ভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে রহস্য বাড়ছে। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার তাহিরের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই দিনই স্থানীয় সময় রাত ১১টায় বহওয়ালপুরে জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে জইশের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও বার্তা নেই।

Advertisement

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহির দীর্ঘ সময় ধরে জইশের নানা কাজকর্ম সামলাচ্ছিলেন। সংগঠনের অন্যতম মাথা ছিলেন তিনি। মাসুদের আর এক ভাই ইব্রাহিম আজহার আফগনিস্তানে নানা জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত। তাহিরের দায়িত্বে ছিল সশস্ত্র জঙ্গিরা। পরবর্তী কালে তাঁকে মারকাজ় উসমান-ও-আলির দায়িত্ব দেওয়া হয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিঁদুর অভিযান চালাচ্ছিল, সেই সময় এই মারকাজ়েই অস্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিলেন মাসুদ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারকাজ়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। তার পরই তাহিরকে মারকাজ়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছর সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানের যে সব জায়গায় হামলা চালিয়েছিল ভারত, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বহওয়ালপুর। সেই সময় এক রাতে পাকিস্তানের ২১টি জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় মৃত্যু হয় জইশ প্রধান আজহারের পরিবারের ১০ জনের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে সেই সময় দাবি করা হয়, ওই হামলায় নিহত হয়েছেন মাসুদের বোন এবং ভগ্নিপতিও। তবে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ১০ জন নয়, মাসুদ-ঘনিষ্ঠ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল ভারতীয় বাহিনীর হামলায়।

দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন মাসুদ। এমনকি, রাষ্ট্রপুঞ্জও মাসুদকে ‘জঙ্গি’ বলে দাগিয়ে দেয়। তিনিই জইশের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০২ সালে সরকারি ভাবে জইশ-ই-মহম্মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তা কেবল খাতায়কলমে। পাকিস্তানের এই ক্যাম্পাসে বসে বিনা বাধায় কাজ করত জইশ জঙ্গিরা। ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার নেপথ্যেই ছিল জইশ। ২০০১ সালে দিল্লিতে সংসদে হামলা হোক বা ২০১৬ সালে পঠানকোটে বিমানঘাঁটি কিংবা ২০১৯ সালের পুলওয়ামায় হামলা— এমন নানা জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল জইশ। ২০০১ সালের সংসদ হামলার পর থেকেই আজ়হার অন্তরালে চলে যান। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে বহওয়ালপুরে আবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দারা, তাঁর গতিবিধির উপর কড়া নজর রেখেছিলেন। সর্বশেষ খবর থেকে জানা যায়, বহওয়ালপুরের ওই ক্যাম্পাসে বসেই আবার নতুন করে জঙ্গি হামলার ছক কষছিলেন আজহার।

Advertisement
আরও পড়ুন