—প্রতীকী চিত্র।
সামান্য দেরিতেহলেও ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের আক্রমণের সমালোচনা করেছে চিন। বেজিংয়ের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘এটা পুরোদস্তুর আগ্রাসন। এখন সবচেয়ে জরুরি হল সামরিক অভিযান বন্ধ রেখে সংঘাত ছড়ানো বন্ধ রাখা। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো প্রয়োজন।’’
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আমেরিকার তরফে চিনকে নিশানা করার একটি অন্যতম কারণ হল ইরানে সক্রিয় একটি চিনা ব্যাঙ্ক। ‘ব্যাঙ্ক অব কুনলুন’ নামে ওইসংস্থা ‘চায়না ন্যাশনালপেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন’-এর নিয়ন্ত্রণাধীন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা ও ডলারকে এড়িয়ে ওই ব্যাঙ্কেরমাধ্যমে ইরানের সঙ্গে তেল ব্যবসা চালাচ্ছিল চিন।
কী ভাবে?
আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার ফলে ডলারের মাধ্যমে বাণিজ্য করার পথ ইরানের কাছে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রতি মাসে চিন ইরানের কাছ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল কিনত। তার দাম দিত চিনা মুদ্রা ইউয়ানে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিনের শুল্ক বিভাগের নথিতে ইরান থেকে তেল আমদানি করার কথা উল্লেখই করা হত না। উল্টে মালয়েশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়েছে বলে দেখানো হত তা মালয়েশিয়ার মোট তেল উৎপাদনের চেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞ সৌরভ জৈনের মতে, ইরানি তেল জাহাজে নিয়ে এসে ভুয়ো শংসাপত্রের মাধ্যমে তাকে মালয়েশিয়ার তেলের তকমা দেওয়া হত। তার পরে তা চিনে পাঠানো হত।
এই তেলের দাম ‘ব্যাঙ্ক অব কুনলুন’-এ ইউয়ানের মাধ্যমে পৌঁছে যেত। নিষেধাজ্ঞার ফলে তা ডলারে রূপান্তরিত করা ইরানের পক্ষে ছিল কার্যত অসম্ভব। তাই তেহরান ওই অর্থের সিংহভাগই খরচ করতে পারত চিনেই। ফলে দু’দিক থেকেই লাভবান হত বেজিং। সৌরভের মতে, চিন থেকে ওই অর্থের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, পরিকাঠামো গঠনের সামগ্রী ও ভোগ্যপণ্যকিনত তেহরান।
বিশেষজ্ঞদের পরিভাষায় এই ব্যবস্থার নাম ‘লুপ’। অর্থাৎ, ইউয়ান পেত ইরান। তা কেবল চিনেই খরচ করা সম্ভব। ফলে ওই অর্থ ফের ঢুকত চিনের আর্থিক ব্যবস্থায়। কখনওই তা ডলারে রূপান্তরিত হত না।
২০১২ সালে ইরানের ব্যাঙ্কের সঙ্গে বড় মাপের লেনদেনের জন্য ‘ব্যাঙ্ক অব কুনলুন’-এর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। কিন্তু পশ্চিমি জগতের লেনদেন থেকে তার আগেই অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল ‘ব্যাঙ্ক অব কুনলুন’। ফলে চিন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণবাণিজ্য চালানোর জন্য ওই ব্যাঙ্কটিকে জিইয়ে রাখে।