Student Organization in Nepal

ছাত্র এবং কর্মচারী সংগঠন নিষিদ্ধ হতে চলেছে নেপালে! বলেন্দ্র মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই প্রস্তাব পাশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে চাইছে নেপালের নতুন সরকার। একই সঙ্গে সরকারি দফতরগুলি থেকেও রাজনৈতিক সংগঠন তুলে দিতে চাইছে তারা। নতুন সরকারের আগামীর পরিকল্পনায় সে কথা জানানো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৭:১২
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। —ফাইল চিত্র।

নেপালের কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর থাকবে না রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন। সরকারি অফিস বা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও কোনও রাজনৈতিক শ্রমিক সংগঠন থাকবে না। আগামী দিনে এই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত করতে চাইছে সে দেশের নতুন সরকার। আগামীর সেই পরিকল্পনায় ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের মন্ত্রিসভা। যদিও এই পরিকল্পনাগুলি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে নেপালের অন্দরেই।

Advertisement

বলেন্দ্রের নেতৃত্বে গত শুক্রবার প্রথম বৈঠকে বসেছিল সে দেশের নবগঠিত মন্ত্রিসভা। নতুন সরকারের আগামীর রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। সরকারের মোট ১০০ দফা পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তার মধ্যে দু’টি সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দফতরকে রাজনৈতিক সংগঠনমুক্ত করার কথা ভাবছে তারা। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কি বকলমে ছাত্র রাজনীতি বা শ্রমিক সংগঠনকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে? সেই প্রশ্নও উঁকি মারতে শুরু করেছে।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে ১০০ দফা পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করা। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানাচ্ছে, নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে সব দলীয় ছাত্র সংগঠন তুলে দেওয়া হবে। এর বদলে পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চালু করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলির বদলে ক্যাম্পাসে থাকবে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ বা ‘ভয়েস অফ স্টুডেন্ট্‌স’ নামে নতুন ব্যবস্থা। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। তবে এই বিকল্প ব্যবস্থা কী ভাবে কাজ করবে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।

একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষক, অধ্যাপক, সরকারি কর্মী বা দেশের সেবায় নিযুক্ত অন্য কর্মীরা কোনও রাজনীতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনও ভাবেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না তাঁরা। এর অন্যথা হলে আইনানুগ বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নেপালের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও আগামী দিনে আর কোনও রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠন থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেন্দ্রের সরকার। জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতেই এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি নেপাল সরকারের।

জেন-জ়ি বিক্ষোভের জেরে গত বছর কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়। তার পরে গত ৫ মার্চ নেপালে নির্বাচন হয়। তাতে ১৮২ আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত হয় বলেন্দ্রের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নতুন দল। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানাচ্ছে, নতুন সরকার সব দিক ভেবেচিন্তেই এই পরিকল্পনাগুলি নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অতীতেও নেপালের বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আগামীর রূপরেখা প্রকাশ করেছিল। যার মধ্যে অনেক পরিকল্পনাই পরবর্তী সময়ে বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। সে ক্ষেত্রে বলেন্দ্রের সরকারের আগামীর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও সংশয়ের অবকাশ রয়েছে।

যদিও সরকার পক্ষের দাবি, ভোটের আগে ইস্তাহারে যে কথাগুলি বলা হয়েছিল, এই ১০০ দফা পরিকল্পনায় সেগুলিই বাস্তবায়িত করার কথা বলা হচ্ছে। নেপালের আইনমন্ত্রী সবিতা গৌতমের কথায়, “নির্বাচনের সময়ে আমাদের দল সাধারণ মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারই প্রতিফলন এই ১০০ দফা পরিকল্পনা। প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে কি না, তা জনতাই শেষ পর্যন্ত বিচার করবে। তাই সরকারও সাধারণ জনতার প্রত্যাশা পূরণের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

তবে এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নের পথে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা এক প্রকাশ স্বীকার করে নিয়েছেন আইনমন্ত্রী। রবিবার নেপালের আইন মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে একপ্রস্ত আলোচনাও করেছেন তিনি। সবিতা বলেন, “পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা এলে তা মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার সবরকম ভাবে প্রস্তুত।”

Advertisement
আরও পড়ুন