লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা। ছবি: রয়টার্স।
সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে আবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইজ়রায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বুধবার থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনপদে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণে রাষ্ট্রপুঞ্জ শান্তিরক্ষা বাহিনীর এক সেনা নিহত হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন দু’জন।
লেবাননে নিযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনিফিল’ (‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম ফোর্স ইন লেবানন) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের মারজ়াইউনের অদূরে তাদের শিবিরে গোলাবর্ষণের ফলে ওই সেনার মৃত্যু হয়েছে। ‘ইউনিফিল’ এই ঘটনাকে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে, লেবাননের সামরিক বাহিনী এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের বাহিনী— শুধুমাত্র এই দু’টি বাহিনীই দক্ষিণ লেবাননে সক্রিয় থাকবে। কিন্তু ইজ়রায়েলি বাহিনী ওই বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক ভাবে অভিযোগ উঠছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ওই হামলায় গুরুতর জখম দুই শান্তিসেনা ‘ইউনিফিল’ পরিচালিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরাসরি ইজ়রায়েল সেনার নাম করা হয়নি বিবৃতিতে।
২০২৪ সালের শেষ পর্বে গাজ়ায় যুদ্ধের আবহেই ইরানের মদতপুষ্ট শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনা। এর পরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেও প্রত্যাঘাত করেছিল হিজ়বুল্লা। জবাবে রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা করে তেল আভিভ। এর জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সেখানে মোতায়েন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত-সহ ৩০টি দেশ। ওই পরিস্থিতিতে গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর পরে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়লেও প্রায়শই ইজ়রায়েল সেনা তা লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ।