Pakistan-Iran Relation

ইরানকে ছ’টি স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান! ইসলামাবাদের সিদ্ধান্ত কি বিপাকে ফেলবে আমেরিকাকে?

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নিজেই জানিয়েছিলেন। তবে এ বার কি ইরানের দিকে বেশি ঝুঁকতে চাইছে পাকিস্তান?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৫
Pakistan opens six land routes to Iran

ইরানকে স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকার সঙ্গে ‘সখ্য’ বৃদ্ধি করতে নানা পদক্ষেপ করেছে শাহবাজ় শরিফের সরকার। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ট্রাম্প তা নিজেই জানিয়েছিলেন। তবে এ বার কি ইরানের দিকে বেশি ঝুঁকতে চাইছে পাকিস্তান? সম্প্রতি রাশিয়া, চিন এবং অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য ইরানকে ছ’টি স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। অনেকের মতে, আমেরিকা এবং ইরানের সঙ্গে ‘দ্বৈত আচরণ’ করছে ইসলামাবাদ।

Advertisement

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেরেক জে গ্রসম্যানের মতে, ইরানকে এই স্থলপথগুলি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে পাকিস্তান ট্রাম্পের চেষ্টার ‘বিরোধিতা’ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চান ইরানের উপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে। কিন্তু সেই কৌশল দুর্বল করছে পাকিস্তান। কারণ, এই অনুমতির ফলে তেহরান মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে তাদের তৈলবাণিজ্য চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছে ইজ়রায়েল। পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে তারা। শুধু ইজ়রায়েল নয়, আলোচনাপর্বে ইরানও একই অভিযোগ তুলেছিল। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজ়াই ইসলামাবাদকে ‘ভাল বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেও জানান, তারা ‘উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়’! কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান পক্ষপাতদুষ্ট এবং আমেরিকার স্বার্থরক্ষাই তাদের অগ্রাধিকার।

আমেরিকার দাবি যাতে ইরান মেনে নেয়, সেই কারণে হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। শান্তিচুক্তি নিয়ে সমাধানের পথে ‘কাঁটা’ এই অবরোধ। তবে তেহরানকে ছ’টি স্থলপথ ব্যবহার করার জন্য পাকিস্তানের অনুমতি মার্কিন নীতির বিপক্ষেই বলে মত অনেকের। যদিও এ ব্যাপারে আমেরিকা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ খোলেনি।

Advertisement
আরও পড়ুন