Flight Incident

মাঝ আকাশেই যাত্রীর মৃত্যু! সাড়ে ১৩ ঘণ্টা দেহের সঙ্গে কাটাতে হল বাকিদের, লন্ডনগামী বিমানে দুর্গন্ধে টেকা দায়

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়ের বিএ৩২ বিমানটি হংকং থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। রবিবার ওই বিমান ছাড়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব এক মহিলা যাত্রীর মৃত্যু হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১১:০৮
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়ের বিমানে মাঝ আকাশেই মৃত্যু বৃদ্ধার।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়ের বিমানে মাঝ আকাশেই মৃত্যু বৃদ্ধার। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েসের লন্ডনগামী বিমানে মাঝ আকাশেই মৃত্যু হল এক যাত্রীর। মৃত্যুর পরও বিমান থামল না। দেহ নিয়েই প্রায় ১৪ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রাপথ অতিক্রম করলেন পাইলট। একটা সময়ের পর সেই দেহে পচন ধরল। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন যাত্রীরা।

Advertisement

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়ের বিএ৩২ বিমানটি হংকং থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। রবিবার ওই বিমান ছাড়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব এক মহিলা যাত্রীর মৃত্যু হয়। সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন। যাত্রীরা অনেকেই হংকং ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাইলট মৃতদেহ নিয়েই লন্ডন পৌঁছোনোর সিদ্ধান্ত নেন। দেহটিকে বিমানের পিছনের দিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেওয়া হয়েছিল। গন্তব্য ছিল লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর।

কেন এক যাত্রীর মৃত্যুর পরেও বিমান ফেরানো হল না? কেনই বা নিকটবর্তী অন্য কোনও বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো গেল না ওই বিমানটি? কর্তৃপক্ষের যুক্তি, কারও মৃত্যু চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতির (মেডিক্যাল এমার্জেন্সি) আওতায় পড়ে না। সেই কারণে বৃদ্ধার মৃত্যুতে বিমানের গতিপথ পরিবর্তনের কথা ভাবা হয়নি। বিমানকর্মীরা কেউ কেউ মৃতদেহটি শৌচাগারে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিছনের দিকে দেহ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আপনজনকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যেরা। অন্য যাত্রীরাও অস্বস্তিতে সময় কাটিয়েছেন। অনেকেরই অভিযোগ, বিমানযাত্রা সন্তোষজনক ছিল না।

বিমানের পিছনে যেখানে দেহটি রাখা হয়েছিল, সেই মেঝে গরম হয়ে উঠেছিল। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃতদেহে পচন ধরে। পিছনের দিকে বসা অনেক যাত্রীই জানান, দুর্গন্ধে তাঁরা টিকতে পারছেন না। কিন্তু সেই অস্বস্তি নিয়েই বাকি পথ অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁদের। এখানেই শেষ নয়, হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছোনোর পর সকল যাত্রীকে বিমানের ভিতরেই ৪৫ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ তদন্ত করার পর তাঁরা বেরোতে পারেন। বিমানটিতে মোট ৩৩১ জন যাত্রী ছিলেন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়ের তরফে পরে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। মৃত যাত্রীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায় তারা। সেই সঙ্গে বলা হয়, সকল নিয়মকানুন সঠিক ভাবে মানা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীদের একাংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন