Pakistan Occupied Kashmir

পাকিস্তানি দমনপীড়নের মাঝেও দমতে নারাজ অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীরা! বিক্ষোভ মিছিলের জন্য প্রস্তুতি জনতার

জুনের শুরুতে রাওয়ালকোটে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন এক স্থানীয় ব্যবসায়ী। তার পর থেকে বিক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবাদীদের দমনে ধারাবাহিক অভিযান চলছে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ২২:৩৭
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজ়ফ্‌ফরাবাদে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজ়ফ্‌ফরাবাদে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী। — ফাইল চিত্র।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আরও জোরালো হচ্ছে ইসলামাবাদ বিরোধী প্রতিবাদ। প্রায় এক মাস হতে চলল প্রতিবাদ, বিক্ষোভের। এ অবস্থায় অধিকৃত কাশ্মীরের জনতার ক্ষোভকে আরও পুঞ্জীভূত করার চেষ্টা করছেন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নেতারা। আগামী দিনে মুজ়ফ্‌ফরাবাদের দিকে একটি মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। সেইমতো সাধারণ বাসিন্দাদের প্রস্তুত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জেএএসি-র নেতারা।

Advertisement

মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অসন্তোষ বাড়ছে বাসিন্দাদের। জুনের প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। তার পরেই গত ৫ জুন জেএএসি-কে নিষিদ্ধ করে দেয় প্রশাসন। তাতে বিক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিবাদীদের দমন করতে সেই থেকে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানি বাহিনী। সূত্রকে উদ্ধৃত করে ‘সিএনএন-নিউজ় ১৮’ জানাচ্ছে, মহরমের জন্য তিন দিন অভিযান বন্ধ ছিল। তার পরে শনিবার রাত থেকে ফের অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পাক রেঞ্জার্স। রাতভর অভিযানে অন্তত ২৮ জন কাশ্মীরি প্রতিবাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ মহিলাও রয়েছেন।

পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল রাওয়ালকোটে। সেখানেই নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন এক ব্যবসায়ী। তার পরে সেই বিক্ষোভ অধিকৃত কাশ্মীরের অন্য শহরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি লন্ডনে পাক হাই কমিশন এবং ব্রিটেনে পাকিস্তানের অন্য কূটনৈতিক দফতরগুলির বাইরেও সেই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি সরকারের বিরুদ্ধে অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ জনতার ক্ষোভকে সংগঠিত করতে তৎপর হয়েছে জেএএসি। সংগঠন নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও নিজেদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে তারা। এ বার অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিবাদীদের নিয়ে মুজ়ফ্‌ফরাবাদে একটি মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেএএসি নেতারা। উল্লেখ্য, জুনের শুরুতে এই অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত কাশ্মীরে অন্তত ৪২৫ জন প্রতিবাদীকে গ্রেফতার করেছে বাহিনী। প্রতিবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষও হয়েছে। তাতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর।

চলতে থাকা বিক্ষোভ সামলাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। সাধারণ বাসিন্দাদের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধও চাপানো হয়েছে। যার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবার এবং ওষুধ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের।

Advertisement
আরও পড়ুন