Winter Storm in US

শীতঝড়ে বিধ্বস্ত আমেরিকা! সপ্তাহান্তে বাতিল প্রায় ৮,০০০ উড়ান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য ঠান্ডায় কাঁপবেন বহু মানুষ

আমেরিকার একটা বড় অংশের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, তুষারঝড়ের কারণে গৃহবন্দি হয়ে পড়বেন। সে কারণে আগেভাগে জরুরি জিনিস কিনে ঘরে সঞ্চয় করছেন তাঁরা। এর ফলে বাজার-দোকান প্রায় খালি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৯
নিউ জার্সির নরউডে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে বরফ সরাচ্ছেন এক বাসিন্দা।

নিউ জার্সির নরউডে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে বরফ সরাচ্ছেন এক বাসিন্দা। ছবি: রয়টার্স।

শীতঝড়ে কাঁপছে আমেরিকা। তার মধ্যে টেক্সাস, ওকলাহোমা, কানসাসে শুক্রবার রাতে নতুন করে বরফ পড়ায় ঠান্ডা আরও বেড়েছে। সপ্তাহান্তে বাড়তে পারে তুষারঝড়ের দাপট। তাই আগেভাগে বাতিল করা হয়েছে প্রায় ৮,০০০ বিমান। দেশের মধ্যে যাতায়াত করা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। হিটার চালু করতে না পেরে ঠান্ডায় কাঁপছেন মানুষজন। অনেকে আবার আতঙ্কে জরুরি পণ্য, খাবার জিনিস কিনে ঘর বোঝাই করছেন। আশঙ্কা, এর ফলে জরুরি জিনিসের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হতে পারে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, আমেরিকার প্রায় অর্ধেক অংশ, রকি পর্বত থেকে গ্রেট লেকস পর্যন্ত অঞ্চল শীতঝড়ে কাঁপছে। রয়টার্স বলছে, ১৪টি স্টেট এবং কলাম্বিয়া ডিস্ট্রিক্টে আবহাওয়ারর জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বাসিন্দাদের বার বার ঘরে থাকার অনুরোধ করেছে প্রশাসন। স্থানীয়দের দাবি, বাইরে বেরোলে ১০ মিনিটের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে ফ্রস্টবাইট। এই আবহে সপ্তাহান্তে নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত রয়েছে শীতঝড়ের সতর্কতা। আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস, পূর্ব টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত হতে পারে ভারী তুষারপাত। তার মধ্যে শুক্রবার রাতে নতুন করে ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় কাঁপছে টেক্সাস। হাওয়া অফিস বলছে, সেই শীতঝড় দক্ষিণ থেকে ক্রমে উত্তর-পূর্বের দিকে এগোবে। আর তার জেরে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, বস্টনে জমতে পারে প্রায় এক ফুট গভীর বরফ।

উড়ান পর্যবেক্ষক সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার বলছে, শনিবার আমেরিকায় বাতিল হয়েছে বা দেরিতে চলছে ৩,৪০০টি উড়ান। রবিবার ওড়ার কথা থাকলেও উড়ছে না ৫,০০০ বিমান। অর্থাৎ সপ্তাহান্তে প্রায় আট হাজার বিমান বাতিল হয়েছে বা দেরিতে চলছে, যার জেরে ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। এয়ার ইন্ডিয়া ঘোষণা করেছে, রবি এবং সোমবার নিউ ইয়র্ক এবং নেওয়ার্কে যাতায়াতকারী তাদের সব উড়ান বাতিল করা হয়েছে।

আমেরিকার একটা বড় অংশের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, তুষারঝড়ের কারণে গৃহবন্দি হয়ে পড়বেন। সে কারণে আগেভাগে জরুরি জিনিস কিনে ঘরে সঞ্চয় করছেন তাঁরা। এর ফলে বাজার-দোকান প্রায় খালি। মিসিসিপি, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ডিসির কিছু এলাকায় বিপণিতে দুধ, ডিম, পানীয় জলের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তি বাড়াতে পারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ইতিমধ্যে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ নেই। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়েছে। এর ফলে হিটার চালাতে পারছেন না বাসিন্দারা। শীতে কাঁপছেন। এই ঝড়ের কারণে আরও বহু এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যেতে পারে। কিছু এলাকায় বেশ কয়েক দিন বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশ। আমেরিকার সেনসাস ব্যুরো বলছে, দক্ষিণাংশে অন্তত ১১টি স্টেটে বিদ্যুতের মাধ্যমে ঘর গরম রাখেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকলে তাঁরা বিপাকে পড়তে পারেন। পাঁচ বছর আগে টেক্সাসে এই তুষারঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় ঠান্ডায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ।

ফেডেরাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, ৩০টি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। ছ’লক্ষ কম্বল, ৩০০ জেনারেটর মজুত রাখা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল। দক্ষিণের স্টেটগুলিতে বেশ কিছু কলেজও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। টেনিসির কয়েকটি গির্জা জানিয়েছে, রবিবার অনলাইনে হবে প্রার্থনা। ঠান্ডার মধ্যে গির্জায় আসার প্রয়োজন নেই।

Advertisement
আরও পড়ুন