ফের বিক্ষোভ শুরু ইরানে। — ফাইল চিত্র।
গণবিক্ষোভের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বিক্ষোভ শুরু ইরানে। এ বার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে শুরু হল ছাত্রবিক্ষোভ। রয়টার্স জানাচ্ছে, ইরানের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সরকারপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে কয়েক জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন বেশ কিছু ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তার মধ্যে একটি ভিডিয়ো তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির। সেখানে দেখা যাচ্ছে একদল পড়ুয়া দলবদ্ধ ভাবে খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলছেন, তাঁর নিন্দা করছেন। খামেনেইকে ‘খুনি শাসক’ বলে সম্বোধন করতেও দেখা যাচ্ছে ভিডিয়োয়। একই সঙ্গে সে দেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পহলভিকে ইরানের নতুন শাসক হিসাবে বেছে নেওয়ার ডাক দিচ্ছেন ওই পড়ুয়ারা।
ইরানের সরকার সমর্থিত সংবাদসংস্থা এসএনএন এমন বেশ কিছু সংঘর্ষের ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলান্টিয়ারদের দিকে পাথর ছুড়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে সেখানে। ওই ভলান্টিয়ারেরা সরকারপন্থী বাসিজ গোষ্ঠীর সদস্য বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি তেহরানের বেহস্তি এবং আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশাদ বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানাচ্ছে রয়টার্স।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা-ই পরে সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নেয়। এবং তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে একের পর এক শহরে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় ইরানি প্রশাসনের দমনপীড়নও। ইরানি প্রশাসনের দমনপীড়নের জেরে অনেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিহতদের সংখ্যা ঘিরে বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান উঠে আসায় প্রশ্ন উঠতে থাকে ইরান-কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও।
বস্তুত, ইরানের সাম্প্রতিক ওই গণবিক্ষোভে সরাসরি সমর্থন জুগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে সামরিক অভিযান করতে পারে আমেরিকার বাহিনী, একাধিক বার তা নিয়ে সতর্ক করেন তিনি। যদিও বর্তমানে ওই বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত। এরই মধ্যে ফের নতুন করে বিক্ষোভের আঁচ তেহরানে।