বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের গণনা চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আসনসংখ্যা বাড়ছে বিএনপি-র। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, জয় বা এগিয়ে থাকার নিরিখে বিএনপি-র ঝুলিতে এখন ৮৭টি আসন। জামায়াতে ইসলামী (যা জামাত নামেই পরিচিত)-র ঝুলিতে ২৯টি আসন। আর অন্যান্য দলের ঝুলিতে আপাতত তিনটি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছে বৃহস্পতিবার। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটকে ১৫১টি আসনে জিততে হবে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বিএনপি একক ভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দু’টি আসনেই (ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬) জয়ী হয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিএনপি-র তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে ‘বিপুল সংখ্যক আসনে’ নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। শুক্রবার প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে, দেশবাসীর প্রতি শুভকামনায় বিএনপি-র তরফে বিভিন্ন মজসিদে প্রার্থনা করা হবে। তাদের তরফে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি-র তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা জয় উপলক্ষে কোনও বিজয়মিছিল বা সভা করছে না।
অন্য দিকে, ‘ইতিবাচক এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে’ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েও ভোটগণনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামাত। শুক্রবার সকালে দলের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “নির্বাচনী ফল সংক্রান্ত পদ্ধতি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন আসনে তাদের নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোটপ্রার্থীরা ‘স্বল্প ব্যবধানে এবং রহস্যজনক ভাবে’ হেরে গিয়েছেন। বেসরকারি ফলঘোষণার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, ভোটদানের হার জানাতে অনীহা দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে জামাতের দাবি, প্রশাসনের একাংশ ‘একটি বড় দলের দিকে ঝুঁকে রয়েছে’ বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, ‘বড় দল’ বলে বিএনপি-র কথাই বলতে চেয়েছে তারা।