Donald Trump Tariff War

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিচারপতিদের সামনেই ট্রাম্পের ক্ষোভপ্রকাশ! নিজের শুল্কনীতির পক্ষে ফের সওয়ালও করলেন

নিজের শুল্কনীতির সপক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, ‘‘তবে সেই দেশগুলি এখন খুশি, আমরাও খুশি। আমরা চুক্তি করেছি। সব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৭
Tariffs will replace income tax, Donald Trump says in State of Union

আমেরিকার ‘স্টেট অফ ইউনিয়নে’ বক্তৃতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স।

আবার এক বার আমেরিকার নতুন শুল্কনীতির প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) আমেরিকার ‘স্টেট অফ ইউনিয়নে’ (সব প্রদেশের সম্মিলিত মঞ্চ) বক্তৃতা করতে গিয়ে শুল্কনীতি এবং মার্কিন আয়কর ব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের শুল্ক-রায় নিয়েও সরব হন ট্রাম্প। এই রায়কে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প যখন এই রায়ের সমালোচনা করেন, তখন দর্শকাসনে বসে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও। তাঁদের সামনেই তিনি বলেন, অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে আমেরিকার স্বার্থে চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক নেওয়া হচ্ছে!

Advertisement

ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে অন্যান্য দেশ আমেরিকাকে ‘নিংড়ে’ নিয়েছে। ডেমোক্র্যাটেরা তা জানেন কিন্তু বলবেন না! নিজের শুল্কনীতির সপক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, ‘‘তবে সেই দেশগুলি এখন খুশি, আমরাও খুশি। আমরা চুক্তি করেছি। সব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ওরাও এখন প্রচুর টাকা উপার্জন করে।’’ তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, অন্য দেশগুলি যে শুল্ক প্রদান করবে, সেটাই প্রতিস্থাপিত হবে আমেরিকার ‘আধুনিক আয়কর ব্যবস্থার’ সঙ্গে। অর্থাৎ, আয়কর নিয়ে আমেরিকানদের স্বস্তি দিতে চাইছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, শুল্ক থেকে পাওয়া টাকাই আয়কর হিসাবে গণ্য হবে।

শুল্ক ধার্য সংক্রান্ত সুপ্রিম-রায়কে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার পরেই তিনি জানান, এখন প্রায় সব দেশই আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তি টিকিয়ে রাখতে চায়। কারণ তারা জানে, প্রেসিডেন্ট হিসাবে নতুন চুক্তি করার যে আইনি ক্ষমতা আছে তাঁর, তা তাদের জন্য ‘অত্যন্ত খারাপ’ হতে পারে। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে তিনি অন্য দেশগুলির সঙ্গে যে পথে হেঁটেছেন, সেই পথ ধরেই হেঁটে চলবেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘এই হতাশাজনক রায় সত্ত্বেও শক্তিশালী দেশগুলি আমাদের দেশকে রক্ষা করছে।’’ তাঁর মতে, পরে যা পদক্ষেপ হবে, তার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।

জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইনকে হাতিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক শুল্কনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। গত শুক্রবার সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে। রায়ে তারা বলেছে, ‘‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের উপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’ সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সমালোচনা করে প্রায় তৎক্ষণাৎই প্রতিক্রিয়া দেন ট্রাম্প।

দিন দুয়েক আগেও এই নিয়ে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই রায়ের আগে তাঁর যা ক্ষমতা ছিল, এখন তা আরও কয়েক গুণ বাড়ল! ট্রাম্প জানান, কোনও দেশ যদি সুপ্রিম-নির্দেশকে দেখিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ‘খেলতে চায়’ তবে তার পরিণতি আরও ভয়ঙ্কর হবে। তিনি বুঝিয়ে দেন, যে দেশের সঙ্গে যা শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই শেষ কথা। কোনও ভাবে তার অন্যথা তিনি বরদাস্ত করবেন না। পাল্টা আরও শুল্ক চাপানোর হুমকিও দেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট হিসাবে এই ধরনের শুল্ক চাপাতে তাঁর কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না। বুধবার আবার একই সুর শোনা গেল ট্রাম্পের মুখে।

Advertisement
আরও পড়ুন