(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকার ভিসা পেতে এ বার আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের। কারণ এ বার থেকে আমেরিকায় প্রবেশাধিকার পেতে হলে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি) ভিসা বন্ড হিসাবে জমা রাখতে হবে। টাকার পরিমাণে অবশ্য কিছু হেরফের হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম আগেই চালু করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ, ভেনেজ়ুয়েলা-সহ আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তালিকায় ৩৮টি দেশ রয়েছে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স আমেরিকার বিদেশ দফতরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্ট রয়েছে, এমন ব্যক্তি যদি আমেরিকার ভিসা (বি১/বি২ ভিসা) পাওয়ার যোগ্য হন, তা হলে তাঁকে ভিসা বন্ড হিসাবে নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে। যখন ভিসার জন্য আবেদন করা ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, তখনই এই টাকার পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে।
আমেরিকার বিদেশ দফতরের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে যে, আবেদনকারীকে সে দেশের অর্থ দফতরের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘পে.গভ’-এ বন্ড সংক্রান্ত শর্তে সম্মতি জানাতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অনেকেই আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন। সেই প্রবণতায় রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি হোয়াইট হাউসের।
দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বহু অবৈধবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তা ছাড়া এইচ-১বি ভিসা, গ্রিন কার্ডের জন্যও আরও কড়া নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এমনকি ভিসা আবেদনকারীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের উপরেও নজর রাখছেন মার্কিন অভিবাসন দফতরের আধিকারিকেরা। এই সবের সূত্র ধরেই গত অগস্টে কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার নীতি কার্যকর করে আমেরিকা। মঙ্গলবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বাংলাদেশ, ভেনেজ়ুয়েলা, অ্যাঙ্গোলা, আলজেরিয়া, বুরুন্ডি, কিউবা, গ্যাবন, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, টোঙ্গা, উগান্ডা, জিম্বাবোয়ে।