US Iran in United Nations

মেরুদণ্ড থাকলে ইরানের এই আচরণ মেনে নেবে না রাষ্ট্রপুঞ্জ! তোপ মার্কিন দূতের, পদক্ষেপের আর্জি, কড়া বার্তা হরমুজ় নিয়েও

বাহরিনের অনুরোধে সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি ভিত্তিতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই ইরানের আচরণের সমালোচনা করেন মার্কিন দূত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৯
রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের বিরুদ্ধে ভাষণ মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্ট্‌জ়ের।

রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের বিরুদ্ধে ভাষণ মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্ট্‌জ়ের। ছবি: রয়টার্স।

হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপুঞ্জকেও এক হাত নিল আমেরিকা। মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্ট্‌জ় জানিয়েছেন, মেরুদণ্ড থাকলে ইরানের এই ধরনের আচরণ রাষ্ট্রপুঞ্জ মেনে নেবে না, নেওয়া উচিত নয়। হরমুজ়ের কাছে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে পর পর আক্রমণের অভিযোগ তুলেছেন মাইক। আক্রমণের ধরন বিশ্লেষণ করে দাবি করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা জরুরি। রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে সেই মর্মে আবেদনও জানিয়েছে আমেরিকা।

Advertisement

বাহরিনের অনুরোধে সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি ভিত্তিতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই ইরানের আচরণের সমালোচনা করেন মার্কিন দূত। মাইকের বক্তব্য, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করছে ইরান, যা মেনে নেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে বাধা দেওয়া, তাদের উপর হামলা চালানো ঘোরতর ভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের বিরোধী, জানিয়েছেন মাইক। বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘‘ইরানের উদ্দেশে আমাদের বার্তা খুব স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধ করা কোনও আত্মরক্ষার উপায় হতে পারে না। পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে হুমকি দেওয়া রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ অনুযায়ীও যুক্তিসঙ্গত নয়। যদি মেরুদণ্ড বলে কিছু থাকে, তা হলে রাষ্ট্রপুঞ্জ এটা মেনে নেবে না।’’

ইরানকে তাদের কার্যকলাপের জন্য দায়ী করা হোক, রাষ্ট্রপুঞ্জে আর্জি জানিয়েছেন মার্কিন দূত। সম্প্রতি হরমুজ়ের কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুর এবং পানামার পতাকাবাহী দু’টি পণ্যবাহী জাহাজে পর পর হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে ইরান সেই হামলা চালিয়েছে। তেহরানের তরফে পাল্টা আমেরিকার দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। এর জবাবে ইরানে ফের হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন বাহিনীর গোলাবর্ষণে দক্ষিণ ইরানের উপকূলে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জে ওই দুই হামলার কথা তুলে ধরে নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি জোরালো করেছেন মার্কিন দূত। তিনি বলেছেন, ‘‘সিঙ্গাপুরের সেনাবাহিনী কি তেহরানে কোনও হামলা চালিয়েছিল? না। তা সত্ত্বেও ইরান তাদের পতাকাবাহী জাহাজকে আক্রমণ করল। এখানে পানামার দূত রয়েছেন। গত সপ্তাহে পানামার পতাকাবাহী জাহাজও আক্রান্ত হয়েছে। পানামা কি ইরানে হামলা চালিয়েছিল? পানামার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থে কি ইরান পাল্টা জাহাজে হামলা চালায়?’’ ইরানকে অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন মাইক। বলেছেন, ‘‘আমরা আবার ইরানকে অনুরোধ করছি, শান্তি আর আলোচনার পথে ফিরে এসো। গোটা বিশ্ব তোমাদের বিরুদ্ধে। ইরানের মানুষও তোমাদের সঙ্গে নেই। প্রতিবেশীরাও পাশে নেই।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধৈর্য অপরিসীম নয়, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার দূত।

উল্লেখ্য, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার একটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাতে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা বলা আছে। তার পরেও বিক্ষিপ্ত ভাবে অশান্তি, হামলা এবং পাল্টা হামলা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। প্রযুক্তিগত স্তরে সংঘর্ষবিরতির শর্তগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে।

Advertisement
আরও পড়ুন