US Iran in Switzerland

সুইৎজ়ারল্যান্ডের পথে ট্রাম্পের দূত, ইরান থেকে যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার স্মারকলিপি (মউ) স্বাক্ষর হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে দুই দেশের সমঝোতার প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৮:০৩
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইরানের সঙ্গে শান্তি-বৈঠকে যোগ দিতে সুইৎজ়ারল্যান্ড যাচ্ছেন না। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই দূত প্রস্তুত। ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ইতিমধ্যে সুইৎজ়ারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছেন। ইউরোপের পথে রওনা দিয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়স সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্য দিকে, ইরানের প্রতিনিধি হিসাবে আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে থাকতে পারেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবারই তাঁর ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। তবে সূত্রের দাবি, এই পরিকল্পনাও শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।

Advertisement

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার স্মারকলিপি (মউ) স্বাক্ষর হয়ে গিয়েছে। ১৪ দফার সেই মউ-তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্বাক্ষর করেছেন স্বয়ং ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে দুই দেশের সমঝোতার প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়। ভান্সও শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেন। তার পর থেকেই বৈঠক নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার কোনও কারণ হোয়াইট হাউস না-জানালেও লেবাননে ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লার সংঘাতই সমঝোতার পথে প্রধান ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শুক্রবার সেই ‘কাঁটা’ সরে যায়। দুই দেশই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। ফলে আমেরিকা এবং ইরানের আলোচনায় বসতে আর কোনও বাধা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত রবিবার গভীর রাতে ইরান এবং আমেরিকার সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলে ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। ওয়াশিংটন এবং তেহরানও তা নিশ্চিত করে। কিন্তু লেবাননে সংঘর্ষের কারণে সমঝোতা নিয়ে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল। নতুন করে হিজ়বুল্লা চার ইজ়রায়েলি সৈন্যকে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার প্রতিবাদে দক্ষিণ লেবাননে বোমাবর্ষণ করে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী। মৃত্যু হয় ৪৭ জনের। লেবাননে ইজ়রায়েল আগ্রাসন না-থামালে কোনও সমঝোতা হবে না, হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল ইরান। সূত্রের দাবি, ট্রাম্প কথা বলেছিলেন ইজ়রায়েলি আধিকারিকদের সঙ্গে। তার পরেই শুক্রবার লেবানন থেকে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা আসে। আমেরিকা এবং কাতারের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে ইরান সমর্থিত হিজ়বুল্লা এবং ইজ়রায়েলের সূত্র সংঘর্ষবিরতির কথা নিশ্চিত করেছে।

সুইৎজ়ারল্যান্ডের বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ তুলে নেওয়া বা লেবাননে শান্তি ফেরানোর মতো বিষয়গুলিতে একমত হওয়া গেলেও পরমাণুর বিষয়ে এখনও কোনও সমঝোতায় আসতে পারেনি ইরান এবং আমেরিকা। সংঘাতের চূড়ান্ত সমাপ্তি তাই নির্ভর করছে সুইৎজ়ারল্যান্ডের বৈঠকের উপরেই। তবে এর আগে পাকিস্তানে এক বার দুই দেশ মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিল। তা ব্যর্থ হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন