(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি।
ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যের পর এ বার তামার উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকায় আমদানি করা ওষুধের উপর শুল্কের হার ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এখনই ওষুধের উপর কর বসাচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ নয়াদিল্লির কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ক্যাবিনেট বৈঠকে তামার উপর কর বসানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে সিলমোহর দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমরা তামার উপর শুল্ক আরোপ করছি। এই শুল্কহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।’’ কবে থেকে নতুন হারে কর ধার্য হবে? মার্কিন বাণিজ্যসচিব হওয়ার্ড লুটনিক ‘সিএনবিসি’-কে জানিয়েছেন, জুলাই মাসের শেষে অথবা ১ অগস্ট থেকে তামার উপর নতুন হারে শুল্ক ধার্য হতে পারে।
ট্রাম্প আরও জানান, ওয়াশিংটনে শীঘ্রই ওষুধ নিয়েও একটি ঘোষণা করা হবে। তবে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারক দেশগুলিকে সময় দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘এক- দেড় বছর সময় দেব। তার পরে শুল্ক আরোপ করা হবে।’’ উচ্চ হারে শুল্ক কার্যকর করার কথা জানান ট্রাম্প। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাতজাত পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আদায় করার কথা জানায় ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্পের আবার শুল্ক ঘোষণায় চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে ভারতের কপালে। ভারতে তৈরি ওষুধের বড় বাজার রয়েছে আমেরিকায়। বলা চলে, ওষুধ শিল্পে আমেরিকাই ভারতের বৃহত্তম বিদেশি বাজার। এ ছাড়াও, আমেরিকার কাছে তামা এবং তামাজাত পণ্যের অন্যতম রফতানিকারক ভারত। ২০২৩-২৪ সালে ভারত আমেরিকার বাজারে ২৭৯০ কোটি মার্কিন ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে। ২০২৪-২৫ সালে আমেরিকার বাজারে ভারত থেকে তামা এবং তামাজাত পণ্য পৌঁছেছে ৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের।
তামার উপর শুল্ক ঘোষণার পাশাপাশি ‘ব্রিকস্’কেও ১০ শতাংশ কর ধার্য করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানান, খুব শীঘ্রই ‘ব্রিকস্’-এর সদস্য দেশগুলিকে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে! তাঁর দাবি, আমেরিকার ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘ব্রিকস্’। সেই উদ্দেশ্য সফল হতে দেবেন না তিনি! ট্রাম্প ‘ব্রিকস্’ জোটকে আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে ‘খেলা হবে’ বার্তাও। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, ‘‘যদি তারা (ব্রিকস্ সদস্যেরা) সেই খেলা খেলতে চায়, আমিও খেলতে প্রস্তুত!’’ তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘কেউ যদি ডলারকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, তবে তাদের মূল্য চোকাতে হবে।’’