Iran War

‘হামলায় জখম হলেও জীবিত মোজ়তবা’, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হরমুজ়-হুঁশিয়ারির পরেই বললেন ট্রাম্প

মোজ়তবার হরমুজ়-হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের (ইরান) আর কোনও নৌবাহিনী নেই। আমরা তাদের সব জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছি।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৬
(বাঁদিকে) মোজ়তবা খামেনেই এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানদিকে)।

(বাঁদিকে) মোজ়তবা খামেনেই এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানদিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জখম হলেও জীবিত রয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজ়তবা খামেনেই। শুক্রবার সকালে এই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘“আমার মনে হয় সম্ভবত উনি (মোজ়তবা) বেঁচে রয়েছেন। আমার মনে হয় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু আমার ধারণা, তিনি সম্ভবত কোনও না কোনও অবস্থায় বেঁচে রয়েছেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’ দাবি করেছিল, মার্কিন হামলায় গুরুতর জখম হয়ে কোমায় চলে গিয়েছেন ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজ়তবা। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোজ়তবার অডিও বিবৃতি প্রচার করা হয় ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলে। ঘটনাচক্রে, তার পরেই ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মোজ়তবার জখম হওয়া এবং জীবিত থাকার সম্ভাবনা কথা জানালেন।

অডিয়ো বিবৃতিতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ৫৬ বছর বয়সি পুত্র বলেন, ‘‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যাঁরা নিহত হয়েছেন এ বার তাঁদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়াই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’’ পাশাপাশি ওই বিবৃতিতে মোজ়তবা জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমু়জ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখবে ইরান সেনা। তাঁর কথায়, ‘‘শত্রুর উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসাবেই অবরুদ্ধ করে রাখা হবে হরমুজ় প্রণালী।’’ সেই সঙ্গে কার্যত আমেরিকা-ইজ়রায়েল যৌথবাহিনীর উপর ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত’ আরোপ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জানান, ওয়াশিংটন যদি পশ্চিম এশিয়া-সহ বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেনাঘাঁটিগুলি বন্ধ করে তবে তেহরানও প্রত্যাঘাতের পথ থেকে সরে আসবে।

মোজ়তবার হরমুজ়-হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগরক্ষাকারী নৌপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “তাদের (ইরানের হুমকির জেরে আটকে পড়া জাহাজগুলি) হরমুজ় প্রণালী পার হতে হবে এবং কিছুটা সাহস দেখাতে হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের (ইরান) আর কোনও নৌবাহিনী নেই। আমরা তাদের সব জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছি।’’ মোজ়তবার অনুগত ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রত্যাঘাতের শক্তি ক্রমশ কমে আসছে বলেই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মোজ়তবার বৃহস্পতিবারের ওই বিবৃতির আগে ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন হামলায় ৫৬ বছর বয়সি মোজ়তবা পা হারিয়েছেন। তাঁর যকৃতেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। কোমায় চলে গিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোজ়তবা বর্তমানে রাজধানী তেহরানের সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোটা হাসপাতাল ভবনটিকে কড়া নিরাপত্তা-বেষ্টনীতে ঘিরে রাখা হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মহম্মদ রেজা জাফরগজ়ানির নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছে।

প্রসঙ্গত, মোজ়তবা নতুন নেতা মনোনীত হওয়ার পরে গত ৯ মার্চ ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘জানবাজ় অফ রমজ়ান’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আর তার পর থেকেই খামেনেই-পুত্রের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। কারণ, অনেকে ওই শব্দবন্ধের অর্থ করছিলেন ‘ আহত অভিজ্ঞ যোদ্ধা’। ফলে তাঁর আহত হওয়া নিয়ে জল্পনার শুরু হয়েছিল তখন থেকেই। গত বুধবার অবশ্য সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের পুত্র ইউসুফ পেজ়েশকিয়ান দাবি করেছিলেন, দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন। কিন্তু তেহরানের এক চিকিৎসকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউসুফের সেই দাবি নস্যাৎ করে ‘দ্য সান’।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ৮৬ বছরের খামেনেইয়ের। সেই সময়ই গুরুতর জখম হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজ়াদেহ। সোমবার তাঁরও মৃত্যু হয়। ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, মোজ়তবার স্ত্রী জ়াহরা এবং আট বছরের পুত্র বাঘেরও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন