মার্কিন সেনার ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশন। ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই দাবি করছেন, ঠিক তখনই আরও একটি তথ্য প্রকাশ্যে এল। সংবাদসংস্থা, রয়টার্স এবং এপি-র প্রতিবেদন বলছে, এক দিকে যখন মুখে আলোচনার কথা বলছেন ট্রাম্প, পশ্চিম এশিয়ায় আরও এক হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। আর তা থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে কি নতুন কোনও পরিকল্পনা করছে আমেরিকা?
মার্কিন প্রশাসনের দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সেনার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ইউনিট ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশন-এর এক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। গত ১৮ মার্চ রয়টার্স প্রথম জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে চলেছে। তার পর থেকেই জোর আলোচনা চলতে থাকে, তা হলে কি এ বার ইরানের ভূখণ্ডে ঢুকে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা?
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানোর খবর তখনই প্রকাশ্যে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, শান্তিবৈঠক এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে যখন আলোচনার রাস্তায় হাঁটছেন ট্রাম্প (যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানই শান্তিবৈঠকে রাজি হয়েছে), তা হলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে আবার সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ল কেন, তা-ও আবার মার্কিন সেনার এলিট ইউনিট ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশন-কে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় সেনা পাঠানোর যে প্রস্তুতি চলছে, সেটি নিশ্চিত হলেও, কোন অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্রাগে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, ‘‘আমরা যেমনটা আগে বলেছিলাম যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনা অভিযানকেই বেশি গুরুত্ব দেন।’’ তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আর এক সূত্র রয়টার্সের কাছে দাবি করেছে, ইরানে সেনা পাঠানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ওই অঞ্চলে আগামী দিনে নিজেদের আধিপত্য যে বাড়াতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তার একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়, তার একটা প্রস্তুতি সমান্তরালে চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল আরও কয়েক হাজার নৌসেনা পাঠাতে চলেছে আমেরিকা। মার্কিন রণতরী ইউএসএস বক্সারে করে পাঠানো হচ্ছে। সেই রণতরী ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আগে থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে আমেরিকা। পরে আরও দু’টি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এবং ইউএসএস ত্রিপোলিকে পাঠানো হয়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও হামলা, পাল্টা হামলা জারি। তার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, তেহরান তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। সেই আলোচনা চলছে। ১৫ দফা শর্ত রাখা হয়েছে তেহরানের কাছে। তার মধ্যে প্রধান হল, হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে হবে। পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হবে। এর আগেও যে তিন শর্ত রেখেছিল আমেরিকা, তার মধ্যে এই দু’টিই ছিল তালিকা উপরের দিকে। এ বারও যে ১৫ শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও এই দুই শর্ত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রের খবর। আমেরিকার এই প্রস্তাব ইরান মেনে নেয় কি না, সে দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।