US-Iran Conflict

সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?

প্রাথমিক ভাবে ৬০ দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলোচনা যে পথে অগ্রসর হবে, সে ভাবেই এই মেয়াদবৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষবিরতির মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৭:১৮
What are the contents of the proposed draft agreement between the US and Iran

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সংঘর্ষবিরতি এখনও অব্যাহত! কিন্তু কত দিন বজায় থাকবে তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে দু’দেশই নিজের নিজের শর্তে অটল। উভয় পক্ষই চুক্তির শর্ত নিয়ে দর কষাকষি চালাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, একটি খসড়া চুক্তি তৈরি হয়েছে। ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে এমন কী কী বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে কৌতূহল নানা মহলে।

Advertisement

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দু’দেশের কর্তারা একটি নতুন খসড়া সমঝোতাপত্র নিয়ে আলোচনা করছেন। সেই আলোচনা এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক। দু’দেশই চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে। যদিও এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শত্রুতার অবসানের জন্য গুরুতর আলোচনা চলছে। তবে আলোচনা থেকে উঠে আসা অন্যতম বড় একটি অগ্রগতি হল কয়েক হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগ প্যাকেজ। অনেকের মতে এই শর্ত মেনে চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইরানের অর্থনীতি নতুন রূপ পেতে পারে। আলোচনাকারীদের একটি সূত্র জানাচ্ছেন, চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত এই খসড়া চুক্তি অনুমোদন করেননি।

আলোচনা সম্পর্কে অবগত কূটনীতিকেরা জানাচ্ছেন, সংঘর্ষবিরতি সত্ত্বেও আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি চলেছে। তার ফলে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার তাগিদও বেড়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধিকারিকদের মতে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়লে আলোচনা ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সমাধানসূত্রে পৌঁছোতে চাইছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

খসড়া চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং পুনর্গঠন তহবিল অন্তর্ভুক্ত করা। চলমান সংঘর্ষের কারণে আর্থিক ভাবে ইরান যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টায় এই প্যাকেজের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইরানে রিয়্যাল এস্টেট, পরিকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে আমেরিকা থেকে বিনিয়োগও আসতে পারে। শুধু তা-ই নয়, ইরানের উপর চাপানো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও উল্লেখ রয়েছে খসড়া চুক্তিতে। সংশ্লিষ্ট কর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

আলোচনার আর একটি প্রধান শর্ত হল বাজেয়াপ্ত শত শত কোটি ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। ইরানে আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অনেকে। ধারণা, ইরানের প্রায় ২,৪০০ কোটি ডলার সম্পত্তি বিদেশের ব্যাঙ্কগুলিতে বাজেয়াপ্ত রয়েছে। সেই সব বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি মুক্ত করে দিলে, তা ইরানের আর্থিক উন্নতিতে সহায়ক হবে।

আলোচনা সম্পর্কে অবগত কর্তাদের মতে, প্রাথমিক ভাবে ৬০ দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলোচনা যে পথে অগ্রসর হবে, সে ভাবেই এই মেয়াদবৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষবিরতির মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনও ভাবেই লেবাননে হামলা চালানো যাবে না।

আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হল হরমুজ় প্রণালী। দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি অন্তর্বর্তিকালীন চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, তেহরান আবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। তবে তেহরান এ-ও জানিয়ে রেখেছে, ভবিষ্যতে ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজকে কর দিতে হবে ইরান এবং ওমানকে। অন্য দিকে, পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা দ্বিতীয় পর্যায়ে ঠেলা হয়েছে। দু’পক্ষই চায়, আগে প্রাথমিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হোক। বার হোক এক রফাসূত্র। তার পরের ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হোক! যদিও এ বিষয়ে দু’দেশই কোনও ইতিবাচক মন্তব্য করেনি।

Advertisement
আরও পড়ুন