আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার খবর স্বীকার করে নিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তবে এর কোনও প্রভাব ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতার আলোচনায় পড়বে না বলে তিনি দাবি করেছেন। সমঝোতায় আমেরিকা যে আগ্রহী, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এই প্রথম ইরানে কোনও যুদ্ধবিমান খোয়ানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প। মার্কিন ওই যুদ্ধবিমানের এক পাইলট এখনও নিখোঁজ। সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ়কে সংক্ষিপ্ত একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানেই জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত যতই তীব্র হোক, তার প্রভাব সমঝোতার আলোচনায় পড়বে না। পড়া উচিত নয়। ট্রাম্পকে সরাসরি এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘একেবারেই না। কারণ এটা যুদ্ধ। যুদ্ধ চলছে। আমরা যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি।’’
দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী। রিপোর্টে দাবি, বিমানটিতে দু’জন ছিলেন। এক জন পাইলট এবং অন্য জন পিছনের আসনে অস্ত্র পরিচালনার কাজে নিযুক্ত। ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে এক জন বিমান থেকে বেরিয়ে যান। দ্বিতীয় জনকে মার্কিন আধিকারিকেরা উদ্ধার করেছেন। তবে প্রথম জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইরানেও শত্রু দেশের পাইলটের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তাঁকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা এবং সেনার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জনতার কাছে আবেদন করা হচ্ছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি এর জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করছে। আমেরিকার তরফে তল্লাশি অভিযান কত দূর? মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের জন্য কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে? ট্রাম্পকে সে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিশদে উত্তর দিতে চাননি। জানিয়ে দেন, এটি সংবেদনশীল অভিযান। তাই তল্লাশি এবং উদ্ধারকাজ সম্পর্কে প্রকাশ্যে তিনি কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে যাঁকে উদ্ধার করা গিয়েছে, তাঁর চিকিৎসা চলছে। কুয়েতে হরমুজ় প্রণালীর কাছে এ-১০ নামে আমেরিকার আরও একটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে দুই আমেরিকান আধিকারিক সে কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে সেই বিমানের পাইলট সুরক্ষিত। যদিও সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত একটি বিমান ভাঙার কথাই স্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে একাধিক দেশ উদ্যোগী হয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানকে মুখোমুখি আলোচনায় বসাতে চায় পাকিস্তান। সে বিষয়ে কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু রিপোর্টে দাবি, শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেছে ইরান। পাকিস্তানের মাটিতে আমেরিকার আধিকারিকদের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে তারা নারাজ। ফলে সমঝোতার পথে নতুন জট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সুর নরম করলেন ট্রাম্পও।