(বাঁ দিকে) ইরানের প্রতিনিধিদল আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পাক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জটলায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কারের পরই সুইৎজ়ারল্যান্ডে আমেরিকা-ইরান শান্তিবৈঠকের তাল কেটেছে। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফেরা। ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে? সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আচমকা পিছন ফিরে ঘর থেকে বেরিয়ে যান আরাঘচি। আবার কিছু ক্ষণ পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এগিয়ে এসে শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কথা, পিছনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ছবি: রয়টার্স।
সুইৎজ়ারল্যান্ডের রিসর্টে রবিবার প্রথম দফার শান্তি-আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ছিলেন পাকিস্তান এবং কাতারের প্রতিনিধিরাও। কিন্তু বৈঠক শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে ছন্দপতন হয়। ট্রাম্প জানান, ইরান তাদের ‘বন্ধু’কে সংযত না করলে আবার ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা। ‘বন্ধু’ বলতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে বোঝানো হয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সুইৎজ়ারল্যান্ডে প্রতিবাদে গর্জে ওঠে ইরানি প্রতিনিধিদল। সূত্রের খবর, বৈঠকের আয়োজকেরা দুই দেশের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে একটি ফটোশুটের আয়োজন করেছিলেন। তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানোরও কথা ছিল। দু’টি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিই ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বাতিল করে দেয় তেহরান। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান আরাঘচিরা।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন আরাঘচি। তাঁরা একে অপরকে আলিঙ্গনও করেন। কথা বলতে বলতে হঠাৎ পিছন ঘুরে দরজার দিকে এগিয়ে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী। নিজের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ঘর ছাড়েন। শাহবাজ় তখন মুনিরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। বিষয়টি পিছন থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে পান ভান্স। কিছু ক্ষণ পর তিনি এগিয়ে আসেন এবং মুনির ও শাহবাজ়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। ঘরের মধ্যে ফটোশুটের সমস্ত প্রস্তুতি ছিল। সে দিকে না তাকিয়েই বেরিয়ে যান কালিবাফেরা। পরে তাঁরা ট্রাম্পের মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আমেরিকান প্রতিনিধিদলের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সুইস রিসর্টে ভাষণ দিচ্ছেন জেডি ভান্স। ছবি: রয়টার্স।
যদিও ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা ভেস্তে যায়নি। দ্বিতীয় দফায় সোমবার ফের বৈঠক হবে। আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে হরমুজ় প্রণালী। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ অনুযায়ী আমেরিকা কাজ না করলে হরমুজ় খোলার বিষয়েও তারা কোনও পদক্ষেপ করবে না। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কোনও সমাধানসূত্র বেরোয় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।