Donald Trump Board of Peace

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ শুধু গাজ়ার জন্য নয়! মূল লক্ষ্য কী? ভারত ছাড়া আর কাদের ডাক? আপাতত রাজি কেবল এক দেশ

ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছে। একই আমন্ত্রণ গিয়েছে পাকিস্তানের কাছেও। কিন্তু এই ‘বোর্ড অফ পিস’ শুধু গাজ়ার জন্য নয়। নেপথ্যে বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৬
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজ়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বোর্ড অফ পিস’-এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতকেও। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছে। একই আমন্ত্রণ গিয়েছে পাকিস্তানের কাছেও। কিন্তু এই ‘বোর্ড অফ পিস’ শুধু গাজ়ার জন্য নয়। নেপথ্যে ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণা থেকেই তা স্পষ্ট। আসলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করতে চাইছেন ট্রাম্প। তাতে শামিল হওয়ার জন্য ভারত, পাকিস্তান-সহ অন্তত ৬০টি বন্ধু দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

Advertisement

সূত্রের খবর, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, অস্ট্রেলিয়া, হাঙ্গেরি, ইউরোপীয় কমিশনের অধীন দেশগুলি এবং পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশকে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে আপাতত সাবধানি রাষ্ট্রনেতারা। চট করে কেউ আনুষ্ঠানিক ভাবে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি বা তা নিয়ে মন্তব্য করেননি। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কেবল একটি দেশই ট্রাম্পের আমন্ত্রণ নিঃশর্তে স্বীকার করেছে এবং আমেরিকার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। সেই দেশ আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হাঙ্গেরি। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এই সম্মানীয় আমন্ত্রণ আমরা অবশ্যই গ্রহণ করেছি।’’

হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ভাবে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর কাজ শুরু হবে গাজ়া দিয়ে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সফল হলে বিশ্বের অন্যান্য সমস্যাগুলি নিয়েও এই বোর্ড কাজ করবে। এখানেই উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠন রয়েছে। তার পরেও ট্রাম্পের বোর্ডের কী প্রয়োজন, তাদের ভূমিকা কী হবে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে নতুন বোর্ডের সঙ্ঘাতের সম্ভাবনা কতটা, প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও দেশগুলি সাবধানতা অবলম্বন করছে। তবে হাঙ্গেরির পাশাপাশি ভিয়েতনামও ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এপি।

‘বোর্ড অফ পিস’-এ ট্রাম্পের আমন্ত্রণপত্র শনিবার থেকে ইউরোপের রাজধানীগুলিতে পৌঁছোতে শুরু করেছে। ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন। এই আমন্ত্রণের খবর পেয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘আমাদের দিক থেকে যা করার, তা করতে আমরা প্রস্তুত।’’ তিনি গাজ়ার কথা বলতে চেয়েছেন না বৃহত্তর বৈশ্বিক শান্তির কথা, তা কিন্তু স্পষ্ট হয়নি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গাজ়ার জন্য ‘বোর্ড অফ পিস’-কে নৈতিক ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্য কিছু নিয়ে মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, গত বছর মিশরে অনুষ্ঠিত ‘গাজ়া শান্তি সম্মেলন’-এও আমন্ত্রিত ছিল ভারত ও পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ গেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেতে পারেননি। পরিবর্তে ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহকে মিশরে পাঠানো হয় মোদীর দূত হিসাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন