US-Israel on Peace Deal

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে ইজ়রায়েলের ‘হাত বেঁধে’ দিল আমেরিকা? কেন এই চুক্তিতে ‘বিপর্যয়’ দেখছেন নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি হোক, এটা চাইছিলেন না ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সমঝোতার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, ইজ়রায়েলের ‘সন্তুষ্ট’ হওয়ার যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, বাস্তব ছবি কিন্তু অন্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১১:৩৬
(বাঁ দিকে) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

(বাঁ দিকে) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে পরোক্ষে ইজ়রায়েলের ‘হাত বেঁধে’ দিল আমেরিকা? এখন এই প্রশ্নই জোরালো হতে শুরু করেছে। যদিও সমঝোতা স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইজ়রায়েল এই চুক্তিতে যথেষ্ট খুশি। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তির আখেরে ইজ়রায়েলেরই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হল। ইরানের পরমাণু হুমকির ঝুঁকি কমবে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

Advertisement

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদনে প্রকাশ, এই সমঝোতার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি সূত্র আবার দাবি করেছে, ইজ়রায়েলের ‘সন্তুষ্ট’ হওয়ার যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, বাস্তব ছবি কিন্তু অন্য কথা বলছে। প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি হোক, এটা চাইছিলেন না ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যখন সমঝোতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা, সেই সময়েও লেবাননে হামলা জারি রেখেছিল ইজ়রায়েল। ফলে ট্রাম্পের রোষের মুখে পড়তে হয় নেতানিয়াহুকে। কারণ, ইরান যে শর্ত দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান করা যাবে না।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে, সেই শর্ত দেওয়ার পরেও লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়েছেন নেতানিয়াহু। শুধু তা-ই নয়, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে। কিন্তু সমঝোতার পর ইজ়রায়েলের সেই রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেল বলে ওই সূত্রের দাবি। লেবাননে সামরিক অভিযান থামানোর শর্ত আমেরিকা মেনে নিয়ে কার্যত ইজ়রায়েলের ‘হাত বেঁধে’ দেওয়া হল বলে মনে করছেন অনেকেই। আমেরিকার মতো ইজ়রায়েলও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব। ইরানকে পরমাণুমুক্ত করতে মরিয়া ইজ়রায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছিল আমেরিকা। দুই দেশ একযোগে সেই লক্ষ্যেই সামরিক অভিযান চালিয়ে গিয়েছে ইরানে। কিন্তু আমেরিকা তাদের অবস্থান কিছুটা বদলে সমঝোতার রাস্তায় এসেছে। আমেরিকার এই ভূমিকায় নেতানিয়াহু ‘অসন্তুষ্ট’ হলেও ট্রাম্প তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, এই চুক্তিতে আখেরে লাভ হবে ইজ়রায়েলেরই। কিন্তু নেতানিয়াহুর প্রাক্তন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ অ্যামিডর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘এই চুক্তি মোটেই ভালর জন্য হয়নি।’’ সমঝোতার পর নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সাংবাদমাধ্যমে জানান, তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সঙ্গে, বন্ধু আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখাও জরুরি। তবে ইরানকে পরমাণুমুক্ত করার যে সংকল্প নিয়েছেন তিনি, সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসবেন না। ফলে এই চুক্তির ফলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির সন্ধান মিলবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন