(বাঁ দিকে) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। (ডান দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (পিছনে) ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতোই পরিণতি হবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। তাঁকেও বন্দি করা হতে পারে। এমনই ইঙ্গিত দিলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে মধ্যস্থতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২২ সাল থেকে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে চলা যুদ্ধ এখনও জারি। বিভিন্ন স্তরে আলোচনা সত্ত্বেও এই যুদ্ধের কোনও সমাধান মেলেনি। একাধিক বার জ়েলেনস্কি এবং পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি এখনও। পুতিনকে বার বার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞাও চাপানো হয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ়েলেনস্কি। সেখানে মাদুরোর প্রসঙ্গ উঠে আসে। একই সঙ্গে উঠে আসে মাদুরোকে বন্দি করতে ট্রাম্পের ভূমিকার বিষয়টিও। সেই সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাশিয়ার প্রসঙ্গ টেনে পুতিনের অবস্থা মাদুরোর মতো হতে পারে বলেও দাবি করেছেন জ়েলেনস্কি।
জ়েলেনস্কি দাবি করেন, কী ভাবে একনায়কতন্ত্রকে দমাতে হয়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকা জানে এর পর কী করতে হবে। এর পরই তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মতো পুতিনের ভাগ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা করছেন। ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।
তবে জ়েলেনস্কির এই ধরনের মন্তব্যকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের দাবির সঙ্গে তিনি যে একমত নন, সে কথাও স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি যে পুতিনের কাজে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি না, এ রকম কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন আছে। আমাদের মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক রয়েছে। তবে আমি খুব আশাহত। আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি। ভেবেছিলাম এই যুদ্ধও (রাশিয়া-ইউক্রেন) থামিয়ে দেব। কিন্তু আক্ষেপ, তা এখনও থামাতে পারিনি।’’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘দু’দেশের যুদ্ধে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৩১ হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই রুশ সেনা। রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল নয়। আশা করি, খুব শীঘ্রই এই যুদ্ধের সমাধান হবে।’’ প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে আসে মার্কিন সেনা। মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে মাদকসন্ত্রাস এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলছিলেন ট্রাম্প। বার বার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। তার পরই ভেনেজ়ুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছেন ট্রাম্প।