রাজশাহির বাগমারা, রানিনগর ও আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ২০০৪-এ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই। জেএমবি-কে আল কায়দার বাংলাদেশ শাখা হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। ২০০৬-এ ধরা পড়ার পরে আদালতে দেওয়া এজাহারে বাংলা ভাই দাবি করে— এলাকার তিন বিএনপি নেতা, খালেদা সরকারের ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী আমিনুল হক, ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এবং বিএনপি সাংসদ নাদিম মোস্তফার সাহায্য ও সহযোগিতাতেই তিনি এগিয়েছেন। এঁদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলছে। 

বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের জন্য বিএনপির প্রার্থী তালিকায় এই তিন নেতার নামই রয়েছে। 

আর এক জেহাদি সংগঠন হামজা ব্রিগেড-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার অভিযোগে সাকিলা ফারজানা নামে এক আইনজীবীকে ২০১৫-এ গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলা এখনও চলছে। চট্টগ্রাম-৫ আসনে এই সাকিলাকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। 

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের পরিবারের লোকেদেরও প্রার্থী করেছে বিএনপি। ফাঁসি হয়ে যাওয়া কুখ্যাত রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিএনপি প্রার্থী করেছে চট্টগ্রাম-৬ আসন থেকে। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তালিকায় নাম রয়েছে গিয়াসউদ্দিনের ছেলে সামির কাদের চৌধুরীর। দণ্ডিত রাজাকার আব্দুল আলীমের ছেলে ফয়সাল আলীমকেও প্রার্থী করা হয় জয়পুরহাট-১ আসনে। 

এর মধ্যেই মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায় বুধবার সুপ্রিমকোর্ট বহাল রাখায় খালেদা জিয়ার ভোটে লড়া বন্ধ হয়ে গেল। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির নিজের আসন ঠাকুরগাঁও-১ এর পাশাপাশি খালেদার জন্য রাখা বগুড়া-৬ আসনেও প্রার্থী হচ্ছেন। বগুড়া-৭ ও ফেনি-১ আসনে তড়িঘড়ি প্রার্থী বদলানো হয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে ঐকমত্য না-হওয়ায় আওয়ামি লিগের নেতৃত্বে ১৪ দলের জোট ও বিএনপি-র জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট— কেউই সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।