দলের নির্দেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার সংসদে এসে স্পিকারের কাছে শপথ নিয়েছেন উত্তর বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও-৩ কেন্দ্রের বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ। এর আগে বিএনপির শরিক গণফোরামের দুই বিজয়ী প্রার্থী সুলতান মনসুর এবং মোকাব্বির খানও সাংসদ হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন। 

বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি অভিযোগ করে বিএনপি-গণফোরামের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জানিয়েছিলে, তাদের জয়ী প্রার্থীরা সাংসদ হিসেবে শপথ নেবে না। ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ৬টি ও গণফোরাম ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগির নিজেও বগুড়া-৬ কেন্দ্র থেকে বড়সড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু দলের নির্দেশ শিরোধার্য করে এত দিন বিএনপির কেউই শপথ নেননি। এ দিন শপথের পরে জাহিদুর রহমান বলেন, ‘‘দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে জেনেও আমি শপথ নিয়েছি। কিন্তু আমি দলে আছি।’’ জাহিদুরের দাবি কেন্দ্রের মানুষের কাছে মুখ লুকিয়ে ঢাকায় বসে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। যে ভোটারদের একটাই বক্তব্য— শপথ নিয়ে এলাকায় ফেরো।

বিএনপি জাহিদুরকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার আগেই এ দিন এক অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘‘নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দলের যে সব জয়ী প্রার্থী সংসদে গিয়ে শপথ নিতে চান, তাঁরা ‘গণদুশমন’। মানুষ সঠিক সময়ে তাঁদের বিচার করবেন।’’ জাহিদুর তার উত্তরে বলেন, ‘‘সংসদে অবশ্যই আমি নেত্রীর মুক্তি দাবি করব। কিন্তু যে কেন্দ্রে বিএনপি কোনও দিন জেতেনি, সেই ঠাকুরগাঁ-৩-এ এ বার সব চক্রান্ত মোকাবিলা করে আমি দলের পক্ষে জয় ছিনিয়ে এনেছি। যে মানুষগুলো আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা নেই? কোন মুখে তাদের সামনে দাঁড়াতাম?’’

শপথ নেওয়ায় বিএনপির সাংসদ জাহিদুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে শাসক দল আওয়ামি লিগ। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘‘জাহিদুর রহমানকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করি বাকিরাও শীঘ্রই শপথ নেবেন।’’