আখাউড়া-আগরতলা ও কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল প্রকল্প এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি ব্যবস্থার সূচনা করলেন ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী, যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। আজ এক ভিডিয়ো  কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশ প্রকল্পগুলির সূচনা করেন। কনফারেন্সে হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। বক্তব্য রাখেন দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীরাও।

অনুষ্ঠানের সূচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যখনই কথা হয় তখনই ১৯৬৫ সালের আগে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল তা পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গ আসে।’’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘১৯৬৫ সালের
আগের রেলসংযোগ পুনরায় স্থাপন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’’ তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি ‘রোল মডেল’। আখাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগ এই সম্পর্কের ভিত আরো মজবুত করল।’’ আর স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণে মোদী যখন বললেন, ‘‘আজ থেকে আমরা আরও কাছাকাছি এলাম। আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হল।’’ আখাউড়া রেল স্টেশন সংলগ্ন মণ্ডপের বিরাট পর্দায় দেখা গেল দেশীয় রাজনীতিতে মোদীর কট্টর বিরোধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও হাসি। আর মণ্ডপে উপস্থিত স্থানীয় ব্রাহ্মণবেড়িয়া জেলার সুধীজনদের মুখেও সৌহার্দ্যের উষ্ণতা। 

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠানোর বিষয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে গেলেন আরও এক ধাপ। বল মোদীর কোর্টে ঠেলে দিয়ে তিনি বললেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজি থাকলে আমি অতিরিক্ত আরও ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দিতে রাজি।’’ অনুষ্ঠানের শেষে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মমতা। ইদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি শারদীয়ার আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়ে রাখলেন শেখ হাসিনাকে। হাসিনাও তখন ১০০০ মেগাওয়াটের বিষয়ে মমতার আশ্বাসকে স্বাগত জানান।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব রেল প্রকল্প ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগরতলায় মালবাহী ট্রাকের সরাসরি প্রবেশ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেন। বিপ্লবের এই প্রস্তাবকে আখাউড়ার মণ্ডপে উপস্থিত আমদানি-রফতানিকারী ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের পরে আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, এতদিন মাত্র ১৫ কিলোমিটারের জন্য আটকে ছিল এই রেল সংযোগ। উল্লেখ্য, নতুন লাইনে আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতার দূরত্ব ৫১৪ কিলোমিটার কমে যাবে। বর্তমানে ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কে আগরতলা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১৬১৩ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্বের বিরাট অংশে পণ্য পরিবহণও সহজ হবে।

পাশাপাশি, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল প্রকল্পে যুক্ত হবে অসমের করিমগঞ্জ। করিমগঞ্জের মহীশাসন হয়ে এই রুটই যুক্ত হবে প্রস্তাবিত ট্র্যান্স-এশিয়ান রেল পথে। মায়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোই এই রেল পথের লক্ষ্য।