ঢাকার মহম্মদপুরে জঙ্গিডেরায় রাতভর অভিযান চালাল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন। চলল গুলির লড়াই। ডেরায় বাহিনী প্রবেশের পরই ঘটল বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে নিকেশ দুই সন্ত্রাসবাদী। র‌্যাবের ধারণা, এটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ।

ঢাকার ‘হোলি আর্টিজান’ কাফেতে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে আইএস অনুপ্রাণিত নয়া জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) জঙ্গিরা হামলা চালায়। অভিযানে নিকেশ দুই জঙ্গিও এই গোষ্ঠীরই সদস্য ছিল বলে মনে করছে র‌্যাব।

র‌্যাবের তরফে বলা হয়েছে, জামাত-উল-মুজাহিদিন গোষ্ঠী জঙ্গিরা ঢাকার বসিলার একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে রয়েছে এমনই খবর ছিল তাদের কাছে। এর পর রবিবার রাত ৩টে নাগাদ এলাকায় সন্দেহভাজনদের বাড়িটি ঘিরে ফেলে বাহিনী। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সশস্ত্র বাহিনী ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। তখনই ওই ডেরা থেকে গুলি চালানো শুরু হয়।

আরও পড়ুন: শক্তি বাড়াচ্ছে ফণী, ১৮৫ কিমি বেগে আছড়ে পড়তে পারে বুধবার

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয়ক অধিকর্তা মুফতি মহম্মদ খান বলেন, ‘‘আমাদের বাহিনী দরজা খুলে প্রবেশ করতেই গুলি চালাতে শুরু করে বাড়ির বাসিন্দারা। এরপরই পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয় র‌্যাবও।’’

আরও পড়ুন: ‘দেরি করে বেড-টি দিল যে!’ দেরিতে ঘুম ভাঙায় গোলমালের খবর পাননি মুনমুন​

জঙ্গিরা এর পরই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয় নিজেদের, জানিয়েছে র‌্যাব। এই সন্ত্রাসবাদীরা ঢাকার ক্যাফে হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল, বলা হয় এমনটাও।

আরও পড়ুন: ইভিএম-এর বোতামে আতর! ভোট দিয়ে বেরোলেই আঙুল শুঁকছেন তৃণমূল কর্মীরা

তিনি আরও বলেন, ওই জঙ্গি ডেরায় এখনও প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক লুকিয়ে রয়েছে। র‌্যাবের বিশেষ বাহিনী ওই বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করছে। বিস্ফোরণের ফলে একটি টিনের শেডের একাংশ উড়ে যায়। বাড়ির মালিক-সহ আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সোমবার সকালের গুলিযুদ্ধে প্রায় ১৫০ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, বলেন র‌্যাব কর্তা বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘‘বড় রকমের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। তা আটকানো গিয়েছে।’’

সূত্রের খবর, র‌্যাবের নতুন সদর দফতর থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে অবস্থিত এই জঙ্গি ডেরা। সম্প্রতি দুই যুবক ভ্যানচালক পরিচয় দিয়ে এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। এই দু’জনেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।   

২০১৬-র পয়লা জুলাই পাঁচ জন সশস্ত্র জঙ্গি ‘হোলি আর্টিজান’ কাফেতে ঢুকে পণবন্দি করে রাখে বেকারিতে থাকা গ্রাহকদের। এর পর তারা এক ভারতীয় তরুণী-সহ ২০ জন পণবন্দিকে হত্যা করে। খুন করে দু’জন পুলিশকর্মীকেও। সেনা এবং র‌্যাবের সঙ্গে গুলি যুদ্ধে সেখানেই মারা যায় ওই পাঁচ জঙ্গি।