E-Paper

বিরলতম রোগে কিডনি প্রতিস্থাপন করে নজির তৈরি, কলকাতার হাসপাতালে অসাধ্য সাধন করলেন চিকিৎসকেরা

বিশ্বের অন্যতম বিরল জিনগত রক্তক্ষরণজনিত একটি অসুখ ‘ফ্যাক্টর VII ডেফিসিয়েন্সি’। সেই বিরল অসুখে প্রয়োজন পড়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের। সফলতার সঙ্গে সেই অসাধ্যই সাধন করে দেখাল ‘নারায়ণা হাসপাতাল’।

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৫৪
‘নারায়ণা আর এন টেগোর হাসপাতাল’-এর দক্ষ চিকিৎসকরা

‘নারায়ণা আর এন টেগোর হাসপাতাল’-এর দক্ষ চিকিৎসকরা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে কত অসম্ভবই তো সম্ভব হয়। জীবনের আশা যেখানে ফুরিয়ে যায়, সেখানেই নতুন আশার আলো জ্বালায় আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। তারই এক নজির সৃষ্টি হল মুকুন্দপুরের ‘নারায়ণা আর এন টেগোর হাসপাতাল’-এ।

বিশ্বের অন্যতম বিরল জিনগত রক্তক্ষরণজনিত একটি অসুখ ‘ফ্যাক্টর VII ডেফিসিয়েন্সি’। প্রত্যেক ৫০ লক্ষ জনের মধ্যে মাত্র একজনের মধ্যে দেখা যায়। সেই বিরল অসুখে প্রয়োজন পড়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের। সফলতার সঙ্গে সেই অসাধ্যই সাধন করে দেখাল ‘নারায়ণা হাসপাতাল’। এই সাফল্য শুধুমাত্র এই রাজ্যেই, গোটা বিশ্বে প্রথম।

জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসায় নারায়ণার দক্ষতা প্রমাণিত হল আবারও। ভুটানের এই যুবকের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন ছিল একজন দাতার। কিন্তু উপযুক্ত দাতা না থাকায় বিকল্প ছিলেন একমাত্র যুবকের বাবা। কিন্তু সমস্যা আরও জটিল হয় যখন জানা যায় তাঁর বাবারও এই একই জিনগত ত্রুটি রয়েছে। চিকিৎসকেরা পড়েন নতুন সমস্যায়। বহু আলোচনা, ঝুঁকির পর্যালোচনা করার পরে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। সর্বোপরি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় জটিল এই অস্ত্রোপচার।

অসুখটির জটিলতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ‘নারায়ণা আর এন টেগোর হাসপাতাল’-এর কনসালট্যান্ট এবং মুখ্য নেফ্রোলজিস্ট (রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম) চিকিৎসক দীপক শঙ্কর রায় বলেন, “অস্ত্রোপচারের সময় সকলে একত্রিত হয়ে আমরা কাজ করেছি। এ যেন শৃঙ্খলা এবং ধৈর্যের পরীক্ষা ছিল। আমরা এমন এক রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করছিলাম, যার সামান্য রক্তক্ষরণও প্রাণঘাতী হতে পারত। অ্যানাস্থেশিয়া থেকে সিউচারিং, প্রতিটি ধাপই ক্লটিং প্যারামিটার অনুযায়ী নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই অস্ত্রোপচারের সফলতা আমাদের দলের সকলের একত্রিত প্রচেষ্টা, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং রোগীর পরিবারের অটল বিশ্বাসের উদাহরণ। আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই সার্জিক্যাল বিভাগের চিকিৎসক তারশিদ আলি জাহাঙ্গির এবং অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসক তিতিসা সরকার মিত্রের অসাধারণ অবদান।”

বিরল এই রক্তক্ষরণজনিত রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে নারায়ণার কনসালট্যান্ট তথা হেমাটোলজির চিকিৎসক শিশির কুমার পাত্র বলেন, “ফ্যাক্টর VII ডেফিসিয়েন্সি এতটাই বিরল যে বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষে মাত্র একজন এই রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগের চিকিৎসা করতে হলে ধৈর্য বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। ফ্যাক্টর VII কম হলে রক্তক্ষরণ অনেক বেশি হতে পারে, আবার বেশি হলে রক্ত জমাট বাঁধার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই অস্ত্রোপচার তো বটেই, তার পরেও প্রতি মিনিটে নিরাপত্তা বজায় রাখতে হয়েছে। রোগী এবং তাঁর বাবা উভয়েই এখন সুস্থ আছেন, এটাই সব থেকে আনন্দের।”

অস্ত্রোপচারের পরের সময়টাও যথেষ্ট কঠিন ছিল। অল্প রক্ত জমাটের কারণে রোগীর সাময়িক পক্ষাঘাত দেখা দিলেও ‘নারায়ণা আর এন টেগোর হাসপাতাল’-এর দক্ষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

এই হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের প্রতি রোগী এবং তাঁর পরিবারের ভরসাই সুদূর ভুটান থেকে কলকাতায় নিয়ে এসেছে তাঁদের। তার ফলস্বরূপ তিনি আবারও ফিরে পেয়েছেন তাঁর সুস্থ স্বাভাবিক জীবন।

এটি একটি স্পনসর্ড প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনটি ‘নারায়ণা আর এন টেগোর হাসপাতাল’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

Kidney Transplant Factor VII Deficiency Rare bleeding disorder

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy