আজকের দিনে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং শিক্ষাদানের উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের জন্য এমন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা যারা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে নেতৃত্বদানে সক্ষম হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শুরু হল এক নতুন পথ চলা।
উচ্চশিক্ষার জগতে ২৪ মার্চ ‘ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস’-এর উদ্বোধন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। ‘দ্য ভবানীপুর গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি’ ও ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসের লক্ষ্য হল তাদের ৯০ বছরেরও বেশি শিক্ষাক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে আগামী দিনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা।
একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট অতিথিরা। ‘দুটি ঐতিহ্য, একটি ভবিষ্যৎ’ এই মূল ভাবনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ পথচলা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
‘দ্য ভবানীপুর গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি’ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য পরিচিত ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস’, কলকাতা, একসঙ্গে গড়ে তুলেছে ‘ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস’। এখানে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সমন্বয়ে এমন শিক্ষার্থী তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যারা ভবিষ্যতের যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
‘বিশ্বমানের জ্ঞানকেন্দ্র’ হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে পথ চলা শুরু করেছে ‘ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস’। এনএএসি এ+ স্বীকৃত, ম্যাকাউট-এর সঙ্গে যুক্ত এবং এআইসিটিই অনুমোদিত এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য একসঙ্গে শেখা ও কাজ করার একটি আধুনিক পরিবেশ তৈরি করবে। পাশাপাশি নতুন ভাবনার আদান-প্রদান, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সফল কেরিয়ার গড়তেও সাহায্য করবে।
এই নতুন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ‘দ্য ভবানীপুর গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি’-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরাজ ডি শাহ বলেন, “ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাসের সূচনা আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, এটি দুই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মিলিত উদ্যোগ। ভারতীয় মূল্যবোধকে ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করা। আমরা এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে পাঠ্যজ্ঞান ও শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটবে। এতে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিতে, নতুন কিছু ভাবতে এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।”
এই প্রতিষ্ঠান তাদের পড়াশোনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘গ্লোবাল ইমারশন প্রোগ্রাম’, ‘আইবিএম’-এর সঙ্গে ‘বিজ়নেস অ্যানালিটিক্স সার্টিফিকেশন’ এবং বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘মোবিলিটি প্রোগ্রাম’, যেখানে গবেষণা, নতুন কিছু শেখা এবং হাতে-কলমে অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এই প্রতিষ্ঠানে ফ্লিপড ক্লাসরুম পদ্ধতিতে পড়ানো হয়, সঙ্গে শীর্ষ সিএক্সও-দের লাইভ কেস স্টাডি শেখার সুযোগও রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কাজ করতে করতেই শেখার সুযোগ মেলে। এখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞদের দ্বারা সার্টিফিকেশন এবং হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনের দিকে এগিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ এবং ভাল প্লেসমেন্টের সুযোগের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ডিজ়াইন থিংকিংয়ের সাহায্যে ছাত্রছাত্রীরা যাতে সৃজনশীল হতে পারে তা যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়, ঠিক তেমনই তাদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও গড়ে তোলা হয়। ভারতীয় মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিজিসি একটি আধুনিক ক্যাম্পাস, যেখানে ব্যবসা ও ম্যানেজমেন্ট, ফার্মেসি, অ্যালায়েড হেলথ, কম্পিউটিং, মিডিয়া, ডিজ়াইন, হসপিটালিটি এবং রন্ধনশিল্প-সহ নানা বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, বিষয়ভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা হয়। এর ফলে তারা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এই বিষয়ে ‘ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস’-এর প্রধান মেন্টর সিসিল অ্যান্টনি বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নতুনভাবে চিন্তা করতে, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে শেখে। ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস-এ প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রস্তুত করে।”
বিজিসি-তে এমন শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের বাইরেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। এই নতুন পরিচয় শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও ভাবনার প্রতিফলন, তারা কী হতে চায় এবং ভবিষ্যতের জন্য কেমন মানুষ তৈরি করতে চায়।
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
https://bhawanipurglobal.edu.in/
এটি একটি স্পনসর্ড প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনটি ‘ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।