Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

ব্যাঙ্কে গ্যাসের ভর্তুকি পেতে রাজ্যে নথিভুক্তি মাত্র এক তৃতীয়াংশ

নতুন বছর থেকে রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের সরাসরি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্র। কিন্তু এ রাজ্যে এখনও

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত
০২ জানুয়ারি ২০১৫ ০১:৫১
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

নতুন বছর থেকে রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের সরাসরি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্র। কিন্তু এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র এক-তৃতীয়াংশের মতো গ্রাহক সেই সুযোগ পাওয়ার উপযুক্ত।

নতুন নিয়মে দু’ভাবে গ্রাহকেরা অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাবেন। প্রথমত, আগের নিয়মেই গ্রাহকদের আধার নম্বরের ভিত্তিতে তাঁদের অ্যাকাউন্টে তা পাঠানো হবে। দ্বিতীয়ত, যাঁদের আধার নম্বর নেই, তাঁদের শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ভিত্তিতেও সেই অ্যাকাউন্টে তা বণ্টন করা হবে। ১ জানুয়ারি থেকেই এই ব্যবস্থা চালু হলেও আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত আধার নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-এর তথ্য জমা দিতে পারবেন গ্রাহকেরা। তত দিন পুরনো নিয়মে ভর্তুকির দামেই (এখন কলকাতায় ৪১৯ টাকা) কোটা-র গ্যাস পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, যে-সব গ্রাহক গ্যাসের ডিলারদের কাছে আধার নম্বর জমা দিয়েছেন, বছর শেষের হিসেব বলছে, তাঁদের প্রায় ৪০ শতাংশের নম্বর এখনও ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, দু’জায়গাতেই আধার নম্বর নথিভুক্ত না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সরাসরি অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। অভিযোগ উঠছে, ব্যাঙ্কগুলির তরফে এখনও এ নিয়ে কিছুটা তৎপরতার অভাব রয়েছে।

Advertisement

সরকারি সূত্রের খবর, আধার না-থাকা গ্রাহকদের তথ্য নথিভুক্তির কাজ যতটা এগিয়েছে, আধার নম্বর জমা দেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ততটা হয়নি। এ রাজ্যে মোট রান্নার গ্যাস গ্রাহকের সংখ্যা ৯৪ লক্ষ। এর মধ্যে ২৯ লক্ষ গ্রাহকের আধার নম্বর সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থার কাছে নথিভুক্ত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এঁদের সকলেরই আধার নম্বর ব্যাঙ্কেও নথিভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এঁদের মধ্যে ১৭.৭১ লক্ষ গ্রাহকের আধার নম্বর ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, এই ১৭.৭১ লক্ষ গ্রাহকের আধার নম্বর তেল সংস্থা ও ব্যাঙ্ক, দু’জায়গাতেই নথিভুক্ত হওয়ায় তাঁরা নতুন বছরে গ্যাস বুক করলেই সরাসরি অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাবেন। তেল সংস্থাগুলর দাবি, হয় বাকি গ্রাহকেরা ব্যাঙ্কে আধার নম্বর জমা দেননি, নয়তো ব্যাঙ্ক সেই নম্বর এখনও নথিভুক্ত করে উঠতে পারেনি।

রাজ্য স্তরে ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ইউবিআই-এর এক কর্তা। বৃহস্পতিবার বারবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর দফতর থেকে জানানো হয়, তিনি বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে সমস্ত ব্যাঙ্ক ও তেল সংস্থাগুলির মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে তেল সংস্থাগুলি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, ডিলার ও ব্যাঙ্কের কাছে আধার নম্বর নথিভুক্তির এই ফারাক দ্রুত কমিয়ে আনতে না-পারলে ৩১ মার্চের মধ্যে সকলের নম্বর নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শেষ করতে সমস্যা হতে পারে। যার ফল ভুগতে হবে গ্রাহকদের। তবে যাঁদের আধার নম্বর নেই, পরিসংখ্যান বলছে, সে রকম প্রায় ১২.৬৭ হাজার গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে তাঁরা সরাসরি ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য।

এ পর্যন্ত এই দু’ধরনের (যাঁদের আধার রয়েছে ও যাঁদের আধার নেই) গ্রাহক মিলিয়ে মোট ৩০.৩৯ লক্ষ (৩২.২২%) জন সরাসরি ভর্তুকির টাকা পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। তেল সংস্থাগুলির দাবি, যাঁদের আধার এখনও ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত হয়নি (প্রায় ১১.৩৬ লক্ষ) তাঁদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হলে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক গ্রাহক এই সুবিধা পাওয়ার উপযুক্ত হবেন।

এ দিকে, যে-সব গ্রাহক ইতিমধ্যেই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের একাংশের অভিযোগ, গ্যাস বুক করার পরে অনেকেই তা বাতিল হওয়ার এস এমএস পেয়েছেন। ডিলার সংগঠনের কর্তা বিজনবিহারী বিশ্বাসের দাবি, আশঙ্কার কিছু নেই। নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ওই গ্রাহকদের (যাঁরা যোগ্য) পুরনো বকেয়া বুকিং স্বয়ংক্রিয় ভাবেই বাতিল হয়ে ফের নতুন বুকিং হয়ে যাবে।

আবার অনেক গ্রাহকই নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না-থাকায় চিন্তায় পড়েছেন। তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সে ক্ষেত্রে পরিবারের কারও সঙ্গে যুগ্ম (জয়েন্ট) অ্যাকাউন্ট থাকলেও তিনি সেখানে ভর্তুকির টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

দাম কমলো ভর্তুকিবিহীন সিলিন্ডারের। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমার জেরে প্রতিটি ভর্তুকিবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের (১৪.২ কেজি) দাম ৪৩.৫০ টাকা কমাল তেল সংস্থাগুলি। এ নিয়ে পরপর পাঁচ বার এই সিলিন্ডারের দাম কমলো। ফলে কলকাতার দর দাঁড়াল ৭৪৬ টাাকা, দিল্লির দাম ৭০৮.৫০ টাকা।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement