পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল প্রার্থীর বাবা খুনের ঘটনায় সি আই ডি তদন্তে আসল অপরাধীদের আড়াল করা এবং সিটের তদন্তকে প্রভাবিত করে দীর্ঘসূত্রিতার কথা জানিয়ে, সিবিআই তদন্তের আর্জিতে কলকাতা উচ্চ আদালতে ১৭০ পাতার হলফনামা দিলেন কসবার নিদল প্রার্থী হৃদয় ঘোষ। এই খুনের ঘটনার অন্যতম মুখ্য অভিযুক্তকে শাসক দলের নেতাদের আড়াল করা সহ গোটা ঘটনার কথা হলফনামায় জানিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা উচ্চ আদালতে তাঁর আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহরায়কে সঙ্গে নিয়ে হৃদয়বাবু ওই হলফনামা জমা দেন। বিচারপতি হরিশ টণ্ডনের নির্দেশে আজ বুধবার রাজ্য সরকার এই মামলা নিয়ে উচ্চ আদালতে জমা হলফনামা দেওয়ার কথা।

প্রসঙ্গত, বীরভূমে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতে পাড়ুই থানার কসবা পঞ্চায়েতের নির্দল প্রার্থী হৃদয় ঘোষের বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল কর্মী সাগর চন্দ্র ঘোষ খুন হন। ওই খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, তাঁর ঘনিষ্ঠ জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী সহ একাধিক নেতার নাম। খুনের ঘটনার রাত থেকে জেলা পুলিশের তদন্তকারী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের স্ত্রী এবং তাঁর পুত্রবধু। মামলা নিয়ে তদন্তে গাফিলতি এবং আসল অপরাধীদের আডাল করে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সহ নিহতের নিকট এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের একাংশকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠে জেলা পুলিরে বিরুদ্ধে।

খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে থাকাকালীন নেপাল রায়ের আবেদনের জেরে বিচারপতি সি আই ডি তদন্তের নির্দেশ দেন। সি আই ডি তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নিহতের পরিবার। বিচারপতির নির্দেশে সি আই ডি থেকে ওই তদন্তের ভার যায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর হাতে। অভিযোগ, সিটের তদন্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অন্যতম মুখ্য অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা অব্যাহত। পরিস্থিতি বুঝে, আসল অপরাধীদের শাস্তির আর্জিতে সি বি আই তদন্ত করা নিয়ে হলফনামা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নিহতের ছেলে তথা কসবা পঞ্চায়েতের নির্দল প্রার্থী হৃদয় ঘোষ। 

হৃদয়বাবু এ দিন বলেন, “জেলা পুলিশ থেকে সি আই ডি এবং সিট সকলের তদন্তে একটা বিষয় পরিস্কার হচ্ছে, শাসকদলের প্রভাব খাটিয়ে অন্যতম মুখ্য অপরাধীদের আড়াল করছেন তদন্তকারীরা। এই তদন্তে ভরসা পাচ্ছি না। আসল অপরাধীরা এখন ঘুরে বেরাছে। প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। গোটা পরিবার এখনও আতঙ্কে আছি। নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জিতে, গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে কলকাতা উচ্চ আদালতে হলফনামা দিয়ে সি বি আই তদন্তের আর্জি জানিয়েছি। বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে, উপযুক্ত ন্যায় বিচার পাব।”