Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

আদতে কমতে পারে পিএফের পেনশন

প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) পেনশন হিসাবের নতুন ব্যবস্থায় আদতে কমতে পারে তার অঙ্ক। বিশেষত ক্ষতির মুখে পড়বেন তাঁরা, যাঁদের বেতন তুলনায় কম। স্পষ্

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী
কলকাতা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০১:৫৫

প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) পেনশন হিসাবের নতুন ব্যবস্থায় আদতে কমতে পারে তার অঙ্ক। বিশেষত ক্ষতির মুখে পড়বেন তাঁরা, যাঁদের বেতন তুলনায় কম। স্পষ্ট ভাবে বললে, অবসরের অন্তত ৫ বছর বাকি থাকতে যাঁদের মাসিক বেতন (মূল বেতন ও মহার্ঘভাতা মিলিয়ে) ১৫,০০০ টাকায় পৌঁছয়নি।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা পেনশনের স্থায়িত্ব নিয়েও। কারণ, এ বার ওই খাতে টাকা কম পড়ায় তড়িঘড়ি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করেছে কেন্দ্র। কিন্তু কোনও বার যদি সেই বরাদ্দ না মেলে? তা হলে কি ফের কমে যাবে পেনশনের অঙ্ক? কর্তৃপক্ষের অবশ্য আশ্বাস, তা হওয়ার নয়। তবে উদ্বেগের এই জোড়া খবরের মধ্যে পুজোর মুখে পিএফ গ্রাহকদের প্রাপ্তি প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিমা কভারেজের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি।

ন্যূনতম অঙ্ক হাজার টাকা করা ছাড়া আজ প্রায় চোদ্দো বছর এক পয়সাও পেনশন বাড়েনি প্রভিডেন্ট ফান্ডে। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বাজার আগুন। তা সত্ত্বেও সেই ২০০০ সালের পর থেকে পেনশন আর বাড়েনি। তার উপর এ বার যদি উল্টে তা কমে, তাহলে তা মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের সামিল হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement

কিন্তু পেনশন কমার এই আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে কেন? সম্প্রতি পেনশন নিয়ে পিএফের আইন বদলেছে। পুরনো ব্যবস্থায় পিএফের আওতায় থাকা কোনও কর্মী অবসর নেওয়ার আগের এক বছরে প্রতি মাসে যে বেতন পেতেন, তার গড়কেই পেনশনযোগ্য বেতন (পেনশনেবল্ স্যালারি) হিসেবে গণ্য করা হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় তা হিসাব করা হবে আগের ৬০ মাসের (৫ বছর) গড় বেতনের ভিত্তিতে। ফলে অধিকাংশ কর্মীর ক্ষেত্রেই কিন্তু তা কম হওয়ার সম্ভাবনা।

কারণ, সাধারণত কোনও কর্মীর চাকরি জীবনের শেষ ১২ মাসের বেতনে তেমন বড় মাপের কোনও হেরফের হয় না। কিন্তু সেই হিসেব ৬০ মাসের উপর করা হলে, তাতে বড় মাপের ফারাক দাঁড়ানোর সম্ভাবনা। ফলে সে ক্ষেত্রে পেনশনযোগ্য বেতন কমবে। তার ভিত্তিতে কমবে পেনশনের অঙ্কও।

নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ গ্রাহকেরই পিএফের পেনশন যে কমবে, তা মেনে নিচ্ছেন পিএফ কর্তৃপক্ষও। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময়ই কর্মী এবং নিয়োগকারী নিজেদের মধ্যে গড়াপেটা করে চাকরির আগের বছরগুলিতে বেতন কম দেখিয়ে শেষ বছরে তা অনেক বেশি দেখায়। কারণ, তাতে প্রাপ্য পেনশনের অঙ্ক বাড়ে। তাঁদের দাবি, নয়া ব্যবস্থায় সেই কারচুপি করা শক্ত হবে।

এ বিষয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অতিরিক্ত চিফ কমিশনার ভি বিজয়কুমার বলেন, “অস্বীকার করার উপায় নেই যে, নয়া ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই পেনশনযোগ্য বেতন কমে যাবে। ফলে কমতে পারে পেনশনও। কিন্তু তেমনই অসাধু উপায়ে পেনশন বাড়ানোর সুযোগ তেমন থাকবে না। কারণ, এক বছরের বেতনে গড়মিল (ম্যানিপুলেশন) করা সম্ভব হলেও ৫ বছরের জন্য তা করা কঠিন।”

কিন্তু বিজয়কুমারের এই যুক্তি মানতে নারাজ ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা। যেমন, পিএফের অছি পরিষদের সদস্য এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতা শঙ্কর সাহার অভিযোগ, “এটি একেবারেই পেনশনের বোঝা কমানোর উপায়। এমনিতেই গত ১৪ বছরে পেনশনের হার সংশোধন করেনি কেন্দ্র। তার উপর এখন বদলে দেওয়া হচ্ছে পেনশনযোগ্য বেতন হিসাবের ফর্মুলাই। বন্দোবস্ত করা হচ্ছে স্থায়ী ভাবে পেনশন কমানোর। তার উপর নতুন ব্যবস্থায় সেই সব কর্মীরই ক্ষতি বেশি, যাঁদের বেতন কম।” তাঁর যুক্তি, যে সব কর্মী অবসরের আগের পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় মাসে ১৫ হাজার টাকা বা তার বেশি বেতন পাচ্ছেন, তাঁদের এতে তেমন অসুবিধা হবে না। কারণ, পাঁচ বছরের নতুন মাপকাঠিতেও একই থাকবে তাঁদের গড় বেতন বা পেনশনযোগ্য মাইনে। কিন্তু যাঁরা একবারে শেষ দিকে (চাকরির শেষ বছর বা তার আগের দু’তিন বছরে) ১৫ হাজার ছুঁচ্ছেন, সমস্যায় পড়বেন তাঁরাই। শঙ্করবাবুর দাবি, পিএফের আওতায় থাকা কর্মীদের ৮০ শতাংশেরই বেতন ১৫ হাজারের অনেক কম।”

এ দিকে, আজ সোমবারই সারা দেশে পিএফের ন্যূনতম ১০০০ টাকা পেনশন প্রকল্প আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করছে কেন্দ্র। কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে তার স্থায়িত্ব নিয়ে। কারণ, পিএফের পেনশন অন্তত হাজার টাকা করার প্রস্তাব বছর তিনেক আগেই দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তহবিলের ০.৬৩% ঘাটতি। তা মেটাতে প্রথমে নিয়োগকারীদের দেয় টাকা বাড়ানোর কথা বলে কেন্দ্র। কিন্তু নিয়োগকারীরা তাতে রাজি হননি। এমনিতে প্রতি বছর পিএফের তহবিলে কর্মী ও নিয়োগকারীর কাছ থেকে পাওয়া টাকার ১.১৬% অনুদান দেয় কেন্দ্র। কর্মী সংগঠনগুলির বিকল্প প্রস্তাব ছিল, অন্তত ১০০০ টাকা পেনশন দিতে তা বাড়িয়ে ১.৭৯% করা হোক। কিন্তু কেন্দ্র তাতে রাজি হয়নি।

এ বছর আপাতত সেই ঘাটতি মেটানো হয়েছে বাজেট বরাদ্দ থেকে। নেওয়া হয়েছে ১,২০০ কোটি টাকা। ট্রেড ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন মহলের আশঙ্কা, তবে কি ন্যূনতম হাজার টাকা পেনশনের জন্য বরাবর কেন্দ্রের বাজেট বরাদ্দের উপরই নির্ভর করতে হবে? কোনও বছর বাজেটে ওই টাকার সংস্থান না করা হলে, তবে কি ফের কমে যাবে পেনশনের অঙ্ক? ফিরে যাবে পুরনো হারে?

পিএফ কর্তৃপক্ষের অবশ্য আশ্বাস, “এক বার যখন চালু হয়েছে, তা বন্ধ করবে না কেন্দ্র।” একই সঙ্গে তাঁরা জানাচ্ছেন, ন্যূনতম হাজার টাকা পেনশন পেতে পেনশনভোগীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই টাকা জমা পড়বে।

সেপ্টেম্বর থেকে আরও কয়েকটি পরিবর্তন করা হয়েছে পিএফ আইনে। যেমন, দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনশিওরেন্সের সর্বোচ্চ সীমা। এত দিন চাকরিরত অবস্থায় পিএফের কোনও সদস্য মারা গেলে, তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পেতেন। এখন থেকে পাবেন ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। উল্লেখ্য, টাকার এই অঙ্ক ঠিক করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মীর অ্যাকাউন্টে জমা টাকার উপর ভিত্তি করে।

তা ছাড়া, এত দিন দু’একটি নির্দিষ্ট শিল্প ছাড়া বাকি সবখানেই ৬,৫০০ টাকা বেতন পর্যন্ত পিএফ প্রকল্পের আওতায় পড়তেন কর্মীরা। কিন্তু এখন ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনে সেই সুবিধা মিলবে।

আরও পড়ুন

Advertisement