Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

সেনসেক্স বাড়ল ৫১৯, ঘুরে দাঁড়াল টাকাও

জাপানের প্রভাবে নয়া রেকর্ড সূচকের

জাপানি শীর্ষ ব্যাঙ্কের অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় নতুন শৃঙ্গ ছুঁল সেনসেক্স। এক ধাক্কায় বাড়ল ৫১৯ পয়েন্ট। ১৫০ পয়েন্ট উঠে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গেল নিফ্

সংবাদ সংস্থা
মুম্বই ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৪২

জাপানি শীর্ষ ব্যাঙ্কের অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় নতুন শৃঙ্গ ছুঁল সেনসেক্স। এক ধাক্কায় বাড়ল ৫১৯ পয়েন্ট। ১৫০ পয়েন্ট উঠে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গেল নিফ্টিও। দুই সূচকের নতুন মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে ঘুরে দাঁড়াল টাকা। টানা চার দিনের পতনের ধারা কাটিয়ে শুক্রবার ডলারের সাপেক্ষে তার দর বাড়ল ৯ পয়সা। দিনের শেষে মার্কিন মুদ্রার দাম দাঁড়াল ৬১.৩৬ টাকা।

ভারত-সহ সারা বিশ্বকেই কিছুটা চমকে দিয়ে ত্রাণ প্রকল্পে বরাদ্দ ফের বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে ব্যাঙ্ক অব জাপান। তারা জানিয়েছে, বাজারে নগদের জোগান বাড়িয়ে জাপানি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৮০ লক্ষ কোটি ইয়েনের (৭,২৫০ কোটি ডলার) বন্ড কিনবে তারা। আগের তুলনায় যা প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ইয়েন বেশি।

মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সদ্য তাদের ত্রাণ প্রকল্প বন্ধ করার পর জাপানি শীর্ষ ব্যাঙ্কের এই ঘোষণায় গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অঙ্কে পৌঁছে যায় সে দেশের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই। দ্রুত উঠতে থাকে প্রায় সব এশীয় এবং ইউরোপীয় দেশের শেয়ার বাজার। ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন বাজারও। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে উত্থানের এই জোয়ারেই এ দিন সামিল হয়েছে ভারতের শেয়ার বাজার। মার্কিন মুলুকের অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত, ডিজেলের দাম বিনিয়ন্ত্রণের পর এ বার ভারতে আর্থিক সংস্কারের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার আশা ইত্যাদি নানা কারণও এ দিন সেনসেক্সের উত্থানে ইন্ধন জুগিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এক দিনে তার ৫০০ পয়েন্ট লাফের পিছনে মূল কারণ ব্যাঙ্ক অব জাপানের ঘোষণাই।

Advertisement

এ দিন ৫১৯.৫০ পয়েন্ট বেড়ে সেনসেক্স থিতু হয়েছে ২৭,৮৬৫.৮৩ অঙ্কে। ১৫৩ পয়েন্ট বেড়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেক সূচক নিফ্টিও। লেনদেনের শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৮,৩২২.২০ অঙ্কে। এর আগে বাজার বন্ধের সময় দুই সূচকই এই উচ্চতায় পৌঁছয়নি কখনও। ফলে সেই অর্থে এ দিন নতুন রেকর্ড গড়েছে তারা। মোদী সরকারের উপর আস্থার দৌলতে সেনসেক্স শীঘ্রই ৩০ হাজার টপকে যাবে বলে কথা শোনা যাচ্ছিল বহু দিন থেকেই। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই তা ঘুরছে ২৬-২৭ হাজারের ঘরে। তাই অনেকেরই প্রশ্ন, এ বার কি অবশেষে সেই দিকে দৌড় শুরু হল তার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-সহ প্রায় সারা বিশ্বেই শেয়ার বাজারের এমন উত্থানের প্রধান কারণ ব্যাঙ্ক অব জাপানের ত্রাণ প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। বিশেষত মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক ত্রাণ বন্ধ করার ঠিক পরেই জাপান এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সারা বিশ্বের বাজার তাতে খুশি বলে মনে করছেন তাঁরা।

মন্দা থেকে মার্কিন অর্থনীতিকে বার করে আনার জন্য টানা ছ’বছর ত্রাণ প্রকল্প চালু রেখেছিল সে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ। নগদের জোগান বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালেই ওই ত্রাণ প্রকল্প চালু করেছিল তারা। ঠিক হয়েছিল, প্রতি মাসে ৮,৫০০ কোটি ডলারের বন্ড (ঋণপত্র) কিনবে ফেড রিজার্ভ। পরে মন্দার মেঘ সরিয়ে মার্কিন অর্থনীতি মুখ তুলতে শুরু করার পর ধাপে ধাপে ওই ত্রাণ প্রকল্প গুটিয়ে নিতে শুরু করে মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক। ক্রমশ কমাতে কমাতে এক সময় তা ১,৫০০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনে তারা। এবং শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) ঘোষণা করে ওই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা।



বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগে ফেড রিজার্ভ যখন প্রথম বার ত্রাণ প্রকল্প বন্ধ করার কথা বলেছিল, তখন আতঙ্কিত হয়েছিল মার্কিন মুলুক-সহ সারা বিশ্ব। পড়েছিল প্রায় সব দেশের শেয়ার বাজার। কিন্তু এ বার ধীরে ধীরে ক্রমশ কমিয়ে এনে তা বন্ধ করায় সে ধরনের কোনও আশঙ্কা ছড়ায়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও একটা চোরা চিন্তা থেকেই গিয়েছিল। তা হল, মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্কের বন্ড কেনা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে বাজারে ডলারের জোগান কমে যাওয়া। ফলে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন যে, এর ফলে ভারত-সহ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলি শেয়ার কেনা কমিয়ে দেবে কি না।

আর সেই কারণেই ব্যাঙ্ক অব জাপানের এই ঘোষণা এ দিন এত খুশি করেছে শেয়ার বাজারকে। কারণ, তারা ওই বিপুল অঙ্ক ত্রাণ প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ করায় বাজারে ডলারের জোগান নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ এখনই থাকবে না বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে করছেন, এ দিন বাজার বেড়েছেও মূলত ওই কারণেই। একই সঙ্গে, জাপানি শীর্ষ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টে (আরইআইটি) লগ্নি বাড়িয়ে তিন গুণ করবে তারা। শোনা যাচ্ছে, নিজেদের বিশাল পেনশন তহবিলের এক বড় অংশও এ বার সে দেশের শেয়ার বাজারে ঢালবে জাপানি সরকার। এই সমস্ত ঘোষণাও এ দিন বাজারকে খুশি করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

ভারতের বাজারকে খুশি করেছে আরও কিছু বিষয়। যেমন, ত্রাণ প্রকল্প গুটোলেও তাদের সুদ এখনও শূন্যের কাছাকাছি থাকবে বলে জানিয়েছে ফেড রিজার্ভ। ক্রমশ চাঙ্গা হচ্ছে মার্কিন অর্থনীতি। বিশ্ব বাজারে তেলের দর কম থাকায় রাজকোষ ঘাটতি সামাল দিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি ডিজেলের দর বাজারের হাতে ছাড়ার সাহস দেখিয়ে আরও দ্রুত সংস্কারের পথে হাঁটার আশা জাগিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। অনেকে মনে করছেন, এর পর বিমা ও পেনশন বিল পাশ, প্রত্যক্ষ কর বিধি, পণ্য ও পরিষেবা কর ইত্যাদি নিয়েও আগ্রাসী হবে তাঁর সরকার। এই সমস্ত কারণও বাজারকে ঠেলে তুলেছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

আরও পড়ুন

Advertisement