অ্যাপল উত্থান 

১৯৯৭ সালে স্টিভ জোবস যখন অ্যাপলে ফিরছেন, তাঁর হাতে গড়া সংস্থার তখন প্রায় দেউলিয়া দশা। মার্কিন কম্পিউটার নির্মাতা ডেল-এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল পর্যন্ত তখন বলেছিলেন, শেয়ারহোল্ডারদের টাকা ফেরত দিতে অ্যাপল গুটিয়ে দেওয়াই বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ। সেখান থেকে নতুন ভাবে দৌড় শুরু করে ১ লক্ষ কোটি ডলারের সংস্থা হয়ে গেল অ্যাপল। মানে প্রায় ৬৮ লক্ষ কোটি টাকা! যা মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটির সমস্ত শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য। বাজারের ভাষায় মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন।

অনেকে মজা করে বলছেন, ১০০ ডলারের নোটে এই টাকা পরপর সাজালে তা হবে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের অন্তত সিকি ভাগ। ওজন কমপক্ষে ১০ টন। ৫০ বছর ধরে প্রতি দিন ৩৬৭ কোটি টাকা খরচ করেও কিছুটা পড়ে থাকবে ব্যাঙ্কে! কেনা যাবে ৫০ লক্ষ টাকা দামের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ বাড়ি। ভারতের রাজকোষ ঘাটতি ১১ বার মুছে দেওয়া যেত ওই টাকা দিয়ে।

১২ ডিসেম্বর, ১৯৮০:  মার্কিন শেয়ার বাজারে নাম লেখাল এক সময় গ্যারাজে যাত্রা শুরু করা অ্যাপল

১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭: ১৯৮৫ সালে বিতাড়িত হওয়ার পরে ফিরলেন জোবস। সংস্থা তখন ধুঁকছে। লোকসান ১৮০ কোটি ডলার

২৩ অক্টোবর, ২০০১: দুনিয়াকে চমকে আবির্ভাব আই-পডের। স্টিভ বললেন, বদলে যাবে গানের জগৎ

৯ জানুয়ারি, ২০০৭: এল আই-ফোন। ডিজাইন, বৈশিষ্ট্য আর জোবসের বিপণনে চেনা দৃশ্য বিপণির সামনে লম্বা লাইন

২৭ জানুয়ারি, ২০১০: ফের চমক। ফোনের সঙ্গী হিসেবে বাজারে এল আই-প্যাড। ঝড় উঠল ট্যাব বিক্রিতেও 

২৪ অগস্ট, ২০১১: সিইও পদ থেকে সরে গেলেন ক্যানসারে আক্রান্ত জোবস। দায়িত্বে নিলেন টিম কুক

৫ অক্টোবর, ২০১১: প্রয়াত স্টিভ জোবস। প্রশ্ন উঠল, উদ্ভাবন একই রকম থাকবে?

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪: এল অ্যাপল ওয়াচ। সেই অর্থে কুক জমানায় প্রথম পণ্য

২ অগস্ট, ২০১৮: বাজারে নথিভুক্ত প্রথম মার্কিন সংস্থা হিসেবে এক লক্ষ কোটি ডলারের সংস্থা হল অ্যাপল। বিশ্বে সম্ভবত দ্বিতীয়।

*কোটি ডলার, ১ ডলার = ৬৮ টাকা ধরে, তথ্যসূত্র: রয়টার্স