ব্যাঙ্ক নয়, এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে (এনবিএফসি) নগদের সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিন্তায় মিউচুয়াল ফান্ডের লগ্নিকারীরা। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ডের বিপুল পরিমাণ টাকা এনবিএফসিগুলিতে লগ্নি করা হয়। সেখানে নগদের সমস্যার জেরে সময়মতো লগ্নির টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কিনা, এটাই দুশ্চিন্তার কারণ। তবে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এবং মিউচুয়াল ফান্ড কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। 

সম্প্রতি দেনার দায়ে সঙ্কটে পড়েছে এনবিএফসি সংস্থা আইএল অ্যান্ড এফএস। দেনার চাপে গত অগস্ট মাস থেকে লগ্নিকারীদের টাকা ঠিকমতো ফেরত দিতে পারছে না তারা। এ দিকে, বহু কর্পোরেট সংস্থা, বিমা সংস্থার পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডগুলিও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ঋণদাতা ওই সংস্থার স্বল্পমেয়াদি ঋণপত্রে লগ্নি করেছে। এনবিএফসিগুলি মিউচুয়াল ফান্ড ও ব্যাঙ্ক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়। তার পর সেই অর্থ দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ দেয়। এই কারণেই মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের সেপ্টেম্বরের হিসেব অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ডগুলির প্রায় ৩.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা বিভিন্ন ধরনের স্বল্পমেয়াদি ঋণপত্রে লগ্নি করা ছিল। তার মধ্যে এনবিএফসিগুলিতে লগ্নির পরিমাণ ৫০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা বলে ওই মহলের ধারণা। 

আরও পড়ুন: অচ্ছে দিন আসবে না, দাবি নকল মোদীর

মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলির কর্তাদের মতে, এনবিএফসিগুলিকে নভেম্বর মাসে ঋণপত্রের প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। তবে আদিত্য বিড়লা, কোটাক মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সংস্থার কর্তাদের দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগেও টাকা ফেরত না-পাওয়ার যে আশঙ্কা ছিল, তা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। সূত্রের মতে, সাধারণ ভাবে যে পরিমাণ টাকা ফেরত হয় তার প্রায় ৫০ শতাংশই ফের বিনিয়োগ করেন লগ্নিকারীরা। কিন্তু তার পরেও তো নভেম্বরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার লগ্নি ফেরত দেওয়ার দায় থেকে যাচ্ছে। বস্তুত, আইএল অ্যান্ড এফএস ঠিক সময়ে লগ্নির টাকা ফেরত দিতে না-পারায় দু’টি বড় মিউচুয়াল ফান্ডের ন্যাভ পড়ে যায়। নগদের সমস্যায় পড়ে সব এনবিএফসি-ই। সে জন্য শেয়ার বাজারে এনবিএফসিগুলির দর পড়ে।

আরও পড়ুন: মন্দির-মসজিদ নয়, বিতর্কিত জমিতে শিশুদের জন্য মাঠ চাইছে অযোধ্যা

মিউচুয়াল ফান্ড কর্তাদের অবশ্য দাবি, টাকা ফেরত নিয়ে লগ্নিকারীদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। এর জন্য সব সংস্থাই তৈরি। সকলেই নগদের ব্যবস্থা করে রেখেছে। এনবিএফসিগুলি নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করছে বা ব্যাঙ্ক থেকে স্বল্প মেয়াদে ঋণ নিচ্ছে।