তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিলই। গত কয়েক সপ্তাহে বাজারে দাম বেড়েছে আনাজের। দৈনন্দিন বেশ কিছু পণ্য কেনার খরচও বেশি পড়ছে। ইতিমধ্যেই এপ্রিলে দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৩.৪৮ শতাংশে। মে মাসে তা৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে জানাল সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সমীক্ষা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এমনিতে ৪% তেমন আশঙ্কাজনক নয়। ওই হারের মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধিকে বেঁধে রাখার লক্ষ্য রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের। সমীক্ষার ফল উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মূলত দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে। বিশেষত জ্বালানি এবং আনাজের মতো খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে।সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এগুলির পিছনে সাধারণ মানুষের খরচ অচিরেই আরও বাড়তে পারে।
দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ১৫ মাস ধরে ৪ শতাংশের নীচে। তবে গত কয়েক মাসে তা ধাপে-ধাপে বেড়েছে কিছুটা। এপ্রিলে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির ৮% পেরিয়ে যাওয়াও (৮.৩%) খুচরো নিয়ে আশঙ্কার কারণ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদদের দাবি, মে মাসে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেড়ে হতে পারে ৯.০৫%। ফলে খুচরো দামে তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বাড়বে। গত ৩-৮ জুন৩৮ জন অর্থনীতিবিদদের নিয়ে সমীক্ষাটি চালিয়েছিল রয়টার্স। সেখানে ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা কণিকা পসরিচার বক্তব্য, চড়া তাপমাত্রা এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ধাক্কা খেয়েছে। গ্রীষ্মে মাথাচাড়া দিয়েছে আনাজের দাম। মে মাসে এই সমস্ত কারণেই খাদ্যপণ্য আরও চড়তে পারে। তেলের দাম বাড়ায় যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহণে খরচ বেশি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাথা তুলবে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনীতিবিদ সাক্ষী গুপ্তের মতে, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধের পুরো প্রভাব পণ্যের দামে পড়েনি। কিন্তু পাইকারি বাজারে তা বেড়েছে অনেকটাই। তার প্রভাব খুচরোয় পড়তে কিছুটা সময় লাগার কথা। সে ক্ষেত্রে গত মাসের হারের বেশ খানিকটা মাথা তোলার আশঙ্কা। বর্ষা সত্যিই কম হলে দামের ধাক্কা আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সকলেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)