মাত্র দু’ অক্ষরের একটি ছোট্ট শব্দ। কিন্তু হলে কী হবে, ‘সুদ’ শব্দটি চিন্তায় রেখেছে‌ সবাইকে।

শিল্পপতিরা চাইছেন ঋণে সুদ কমুক। এতে কমবে  উৎপাদন খরচ, যার জেরে কমবে দাম। দাম কমলে পণ্যের চাহিদা বাড়বে। প্রাণ ফিরবে শিল্পে। কেন্দ্রও চাইছে সুদ কমুক। পরিস্থিতি ততটা অনুকূল না-হওয়া সত্ত্বেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গত এক বছরে সুদ কমিয়েছে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের ঋণের উপর সুদ কমেছে। গৃহঋণে সুদ নেমে এসেছে ৯.৭৫ শতাংশে। কিন্তু শিল্প চাইছে সুদ আরও কমুক। গত ৪ অগস্ট ঋণনীতি পর্যালোচনায় আরবিআই সুদ কমাবে এমন আশা থাকলেও বাস্তবে কিন্তু তা হয়নি। এখন দেখার, অক্টোবরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ কমায় কি না। পণ্যের দাম কমলে সুদ কমবে এটা ধরেই নেওয়া যায়। সুদ কমা নিয়ে সরকারেরও পরোক্ষ চাপ আছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর।

এ বার তাকানো যাক মুদ্রার উল্টো পিঠে। ঋণের উপর সুদ কমলে সুদ কমে জমার উপরেও। হয়েছেও তা-ই। গত কয়েক মাসে ব্যাঙ্কের মেয়াদি জমায় সুদ ৯% থেকে নেমে এসেছে ৮.২৫ শতাংশে। প্রবীণ নাগরিকেরা পাচ্ছেন ৮.৭৫%। সুদ এতটা কমায় বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। আশঙ্কা, তা আরও কমতে পারে। অন্য দিকে সরকারি পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, খুচরো বাজারে পণ্যমূল্য কিন্তু আদৌ কমছে না। বরং খাদ্যপণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। ঋণের উপর সুদ কমায় শিল্প কতটা উপকৃত হয়েছে, তা বোঝা না-গেলেও মধ্যবিত্ত যে উপকৃত হয়নি, তা খুবই স্পষ্ট। আয় অনেকটা করে কমেছে প্রায় প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত মানুষের। ব্যাঙ্ক-জমায় সুদ কমায় আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে কোনও কোনও ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্প। সেখানে এখনও সুদ কমেনি। ফলে মানুষ আবার ভিড় করছে ডাকঘরে। এতে অসুবিধায় পড়েছে ব্যাঙ্কগুলি। কারণ ব্যাঙ্ক থেকে অনেক বড় আমানতই ডাকঘরে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ব্যাঙ্কগুলি এখন সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছে, ডাকঘরেও যেন সুদ কমানো হয়। এটি হলে মধ্যবিত্তের বড় বিপদ। ভাল সুদে টাকা রাখার সুরক্ষিত জায়গা আর থাকবে না।

এই পরিস্থিতিতে খোঁজ নেওয়া যাক ব্যাঙ্ক ও ডাকঘরের বাইরে আর কোথায় টাকা রেখে একটু বেশি আয় করা যায়। বর্তমান বাজারে দীর্ঘ মেয়াদের কথা মাথায় রেখে জীবনবিমা নিগমের বরিষ্ঠ পেনশন যোজনা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি অতি উত্তম লগ্নির জায়গা। এখানে টাকা লগ্নি করে আজীবন মাসে ৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া যেতে পারে। রিটার্ন ৯%। বাৎসরিক সুদ নিলে ৯.৩৮%। ন্যূনতম লগ্নি ৬৬,৬৬৫ টাকা এবং সর্বাধিক ৬,৬৬,৬৬৫ টাকা।

গ্রাহক পেনশন পাবেন আজীবন এবং মৃত্যুর পরে পুরো টাকা পাবেন তাঁর নমিনি। পড়তি সুদের বাজারে এটি একটি অতি উত্তম লগ্নির জায়গা। বাজারে সুদ যতই কমুক, আপনি কিন্তু আজীবন একই হারে পেনশন পেতে থাকবেন। প্রকল্প খোলা আর মাত্র কয়েকটি দিন। বন্ধ হবে ১৪ অগস্ট। আয় করযোগ্য।

এ বার  তাকানো যাক বেসরকারি ক্ষেত্রে লগ্নির দিকে, যার আওতায় রয়েছে কোম্পানি জমা প্রকল্প। এখানে সুদ একটু বেশি হলেও ঝুঁকির ব্যাপারটি থেকেই যায়। ‘এএএ’ রেটিং-যুক্ত প্রকল্পে অবশ্য ঝুঁকি অনেকটাই কম। এ রকমই কিছু প্রকল্প দেখে নেব এক নজরে।