এক দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। অন্য দিকে ডলারের তুলনায় টাকার ক্রমাগত পতন। এই দুই ধাক্কায় লাফিয়ে বাড়ছে তেল আমদানির খরচ। এর আশু সমাধান সূত্র এখনও পর্যন্ত বাতলাতে পারেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই অবস্থায় কেন্দ্রের টোটকা, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে সমস্ত স্কুটার ও মোটরবাইক বিদ্যুৎচালিত হয়ে গেলে তেল আমদানির খরচ ১.২ লক্ষ কোটি টাকা কমে যাবে। 

নীতি আয়োগের হিসেব বলছে, দেশে এখন ১৭ কোটি স্কুটার ও বাইক চলে। এক একটি দু’চাকার গাড়ি দিনে আধ লিটারের কিছু বেশি পেট্রল ব্যবহার করলে বছরে ৩,৪০০ কোটি লিটার জ্বালানি খরচ হয়। পেট্রলের দাম লিটারে ৭০ টাকা ধরলে খরচ প্রায় ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা। আমদানিকৃত অশোধিত তেলের খরচ এর অর্ধেক ধরলেও বছরে ১.২ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব। 

এত দিন মোদী সরকারের বক্তব্য ছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত গাড়ি বৈদ্যুতিক বা বিকল্প জ্বালানি চালিত করতে হবে। তবে শনিবার দিল্লিতে গাড়ি শিল্পের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ রাজীব কুমার বলেন, ‘‘যদি দেশের সমস্ত গাড়িকেই বিদ্যুৎ বা বিকল্প জ্বালানিতে চালানো লক্ষ্য হয়, তা হলে কি আমরা একটা সময়সীমা ঠিক করতে পারি? যদি সেটা স্বাধীনতার শতবর্ষ, ২০৪৭ সাল হয়?’’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সামগ্রিক পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই হয়তো প্রথমে দু’চাকার গাড়িকে বিদ্যুৎচালিত করার কথা বলা হচ্ছে। যদিও শিল্পমহল এ ভাবে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিরোধী। এ দিন তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আবার বলেন, ‘‘গণ পরিবহণ ব্যবস্থা দিয়েই দেশের পরিবহণকে চালাতে হবে।’’