ইউরোপ ক্ষুব্ধ। পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটেছে চিন। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে আমেরিকার শুল্ক বসানোর ‘বদলা’ হিসেবে এ বার পদক্ষেপ করল দিল্লিও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ থেকে আসা ২৯টি পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করল তারা। যার মধ্যে রয়েছে চিংড়ি, আপেল, গাড়িও।

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ওই মার্কিন শুল্কের প্রতিবাদে আগেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দ্বারস্থ হয়েছে মোদী সরকার। এ বার ওই দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে সরাসরি প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটল তারা। অর্থ মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৪ অগস্ট থেকে বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হবে। তবে এরই মধ্যে দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক তেতো হয়ে যাওয়া ঠেকাতে ভারতে আসছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। ২৬-২৭ জুন এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বৈঠকে বসবেন দু’দেশের আধিকারিকেরা।

গোড়ায় দিল্লি একাধিক বার বলেছিল, মার্কিন শুল্ক ভারতের রফতানিতে সে ভাবে প্রভাব ফেলবে না। কারণ, এ দেশ থেকে যে পরিমাণ ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমেরিকায় যায়, তা মোট রফতানির তুলনায় সামান্য। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সুর পাল্টেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মুখে শোনা গিয়েছে উদ্বেগের সুর।

‘বদলা’

পণ্য      শুল্ক*

• কাবলি ছোলা       ৭০

• চানা    ৭০

• মুসুর ডাল            ৭০

• খোসা শুদ্ধ আখরোট              ১২০

• আপেল               ৭৫

• চিংড়ি ৩০

• বোরিক অ্যাসিড    ১৭.৫০

• ফসফরিক অ্যাসিড                ২০

• লোহার পাত        ২৭.৫০

• ইস্পাতের পাত     ২২.৫০

• গাড়ি   ২৫

• ভারী শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্র          ২৫

• সিম সকেট           ২৫

(*সব হার শতাংশে)

এরই মধ্যে শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের হুঙ্কারে চিন, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আমেরিকার এখন কার্যত বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। চিন এবং ইইউ প্রত্যাঘাতের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। যা দেখে চিনা পণ্যে পাল্টা আরও এক ধাপ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছে আমেরিকা। অনেকের মতে, বাণিজ্য যুদ্ধ এখন যে রকম ঘোরালো হয়েছে, তাতে সরাসরি না হলেও পরোক্ষে ভারতের রফতানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সে বিষয়ে শঙ্কিত দিল্লি। তাই প্রত্যাঘাত করতে বাধ্য হয়েছে তারা।

অনেকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন এ বিষয়ে ভারত ও চিনের কাছাকাছি আসাকে। সীমান্ত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের চড়া দাম নিয়ে ওপেক দেশগুলির বিরুদ্ধে কিছুটা এককাট্টা হতে বৈঠকে বসেছে দিল্লি ও বেজিং। যাতে বৃহৎ দুই ক্রেতা হিসেবে তাদের দর কষাকষির সুযোগ থাকে। একই ভাবে বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে কাছাকাছি এসেছে দুই পড়শি দেশ। চিন রণংদেহি। প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং বৃহস্পতিবারও তুলোধোনা করেছেন মার্কিন অর্থনীতিতে ট্রাম্পের দেওয়াল তোলাকে। ভারতও ক্ষুব্ধ। বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বলেন, অবাধ বাণিজ্যের পথে বিভিন্ন দেশ যে ভাবে দেওয়াল তুলছে, তা চিন্তার।

তবে অন্তত একটি মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসানোয় ছাড় দিয়েছে ভারত। ডব্লিউটিও-কে দেওয়া ৩০টি পণ্যের তালিকায় বাইক থাকলেও, বিজ্ঞপ্তি থেকে সেটিকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। যে বাইক নিয়ে টুইটে নরেন্দ্র মোদীকে একাধিক বার বিঁধেছেন ট্রাম্প।