রাজ্যের প্রসিদ্ধ মিষ্টিগুলিকে ভৌগোলিক চিহ্নিতকরণ (জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেটর বা জিআই) তকমা দিতে দীর্ঘ দিন ধরেই উদ্যোগী রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট মহল। ইতিমধ্যেই বাংলার রসগোল্লা, জয়নগরের মোয়া, বিষ্ণুপুরের মতিচুর লাড্ডু, কামারপুকুরের সাদা বোঁদে, নলেন গুড়ের সন্দেশের মতো একাধিক মিষ্টির ভাগ্যে জুটেছে এই তকমা। পাশাপাশি, তা পাওয়ার অপেক্ষায় চন্দননগরের জলভরা, বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ, গুপো সন্দেশ। সম্প্রতি আবেদন জমা পড়েছে মিষ্টি দই, রসমালাই, কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার জিআই তকমার জন্য। আর সেই সঙ্গেই বেঁধেছে বড় গণ্ডগোল।
কৃষ্ণনগরের সরভাজা ও সরপুরিয়ার জিআই তকমার জন্য আবেদন করেছে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘মিষ্টি উদ্যোগ’। যা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে সেখানকার স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সংগঠন কৃষ্ণনগর মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার সমিতি। সম্পাদক তাপস দাসের অভিযোগ, ‘‘এখানকার কোনও ব্যবসায়ী মিষ্টি উদ্যোগের সদস্য নন, তা হলে কলকাতায় বসে তারা কী ভাবে সব তথ্য পেল? বিশেষত যখন কৃষ্ণনগরের অধর বা সরপুরিয়া পাড়ার যে দোকানগুলি কয়েকশো বছর ধরে এই মিষ্টি তৈরি করছে, তারাই এই উদ্যোগে শামিল নয়।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘জিআই-এর জন্য দু’রকম মিষ্টির ইতিহাস সম্বলিত যে তথ্য মিষ্টি উদ্যোগ জমা দিয়েছে, হয় তা ঠিক নয়। নয়তো সেই তথ্য সোজা পথে পায়নি।’’ মিষ্টি উদ্যোগের কর্তা ধীমান দাশের যদিও দাবি, “কে করছে সেটা বড় কথা নয়। আমরা বাংলার মিষ্টির ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগী, সেটাই মূল বিষয়। কৃষ্ণনগর থেকে এই দুই মিষ্টির সৃষ্টিকর্তা অধর চন্দ্র দাসের বর্তমান প্রজন্ম আমাদের সঙ্গে আছেন।’’
তাপস জানান, এর আগে ২০১৭-তে এই দুই মিষ্টির জিআই-এর জন্য আবেদন করেছিল সমিতি। সহযোগিতা করেছিল রাজ্য। কিন্তু ২০১৯ নাগাদ যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে, তখনও তাঁদের সংগঠনের সরকারি নথিভুক্তি ছিল না। ফলে আবেদন বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জিআই সংক্রান্ত শুনানিতে স্পষ্ট জানান, যে সংগঠন আবেদন করেছে, তাদের নথিভুক্তি নেই। ফলে আবেদনের বৈধতা থাকছে না। তাঁর দাবি, ২০২০ নাগাদ হাতে আসে সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। পরে তাঁরা রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বার কথা বলেন। যথাসময়ে ফের আবেদনের আশ্বাসও দেওয়া হয়। তার মধ্যেই হঠাৎ করে মিষ্টি উদ্যোগের এই আবেদন দেখে তাঁরা অবাক।
এই নিয়ে দফতরের কর্তারা সরাসরি মুখ খুলতে চাননি। তবে গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক সরকারি আধিকারিকের দাবি, এই দুই মিষ্টি বিশ্বে জনপ্রিয়। তাই দ্রুত জিআই তকমার লক্ষ্যেই আগের আর্জি বাতিলের পরে ফের তা করা হল। তবে কৃষ্ণনগরের মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সংগঠন কেন নেই, তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
সূত্রের অবশ্য খবর, কৃষ্ণনগরের ব্যবসায়ীদের পেশাদারিত্ব ও নিয়মিত যোগাযোগের অভাবেই বিষয়টি এগোয়নি। যদিও তা মানতে নারাজ তাপস। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারি কর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ঠিক সময়ে ফের আবেদন করা হবে। তার মধ্যে এই ঘটনা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’’ এ নিয়ে যথাসময়ে ঠিক জায়গায় আপত্তি জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)