ভারতের অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষি এখনও বেশিরভাগটাই বর্ষার উপরে নির্ভরশীল। যে কারণে অর্থবর্ষের শুরুর দিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসের দিকে তাকিয়ে থাকে বিভিন্ন মহল। সেই পূর্বাভাসই বলছে, এ বার বর্ষা হবে প্রায় স্বাভাবিক। বৃষ্টিপাত হতে পারে বড় মেয়াদের গড়ের (এলপিএ) ৯৬%। যার তারতম্য হতে পারে ৫%। অর্থাৎ খুব খারাপ হলেও বর্ষা হতে পারে স্বাভাবিকের তুলনায় ৯১%। যা শুধু কৃষি ক্ষেত্রই নয়, উৎসাহীত করছে বাজারকেও।

কৃষিতে ফলন কম হলে তার প্রভাব পড়ে মূল্যবৃদ্ধির উপরে। মূল্যবৃদ্ধি বাড়লে সুদ বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়, যা শিল্পের কাছে মোটেও কাম্য নয়। এই কারণেই দেশে এ বার স্বাভাবিক বর্ষা হতে চলেছে— এই খবরে গত সপ্তাহে শেয়ার সূচক বেড়ে নতুন নজির গড়েছে। বাজারের পক্ষে আরও একটি ভাল খবর হল, গত অর্থবর্ষে এ দেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৩৩,১০০ কোটি ডলারের পণ্য ও পরিষেবা। আগের বছরের চেয়ে ১১% বেশি। আশা, চলতি বছরে দেশের রফতানি বাড়তে পারে ২০%। 

অনেকে মনে করছেন, লোকসভা ভোটের পরে দেশে স্থায়ী সরকার তৈরি হলে বাজার আরও উপরে উঠতে পারে। কয়েকটি ক্ষেত্র থেকে নেতিবাচক খবর থাকলেও, সব দিক থেকে ভারতই এখন বিনিয়োগের ভাল জায়গা বলে মত বিদেশি লগ্নিকারীদের। এই বিশ্বাসেই ভারতের বাজারে টানা টাকা ঢালছে তারা। এর পরে বর্ষা ঠিকমতো হলে আগামী দিনে সেনসেক্স ৪০,০০০ ছুঁয়ে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও তেমন ভাবে বাড়ছে না মিড ও স্মল ক্যাপ সংস্থার শেয়ারদর। ভবিষ্যতে সেখানেও উন্নতি চান লগ্নিকারীরা।

যদিও এরই মধ্যে কিছুটা হলেও চোখ রাঙাচ্ছে মূল্যবৃদ্ধি। খুচরোর পরে মার্চে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে  ৩.১৮%। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২.৯৩%। আশা, বর্ষা ভাল হলে তা খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

আর্থিক ফল প্রকাশের পালা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। গত সপ্তাহে ফল জানিয়েছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে তাদের সার্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১,৫৪,১১০ কোটি টাকা। নিট মুনাফা হয়েছে ১০,৩৬২ কোটি। রিলায়্যান্স জিয়োর নিট মুনাফা ৬৫% বেড়েছে।

ওই সময়ে আরবিএল ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ৩৯% বেড়ে পৌঁছেছে ২৪৭ কোটিতে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ২৩% বেড়ে হয়েছে ৫,৮৮৫ কোটি। শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার পিছু ১৫ টাকা ডিভিডেন্ড দেবে তারা। আরও কিছু ফল প্রকাশিত হবে এই সপ্তাহে। ভোটের সঙ্গে নজর থাকবে সে দিকেও।

(মতামত ব্যক্তিগত)