বিরোধীদের অভিযোগ, বৃদ্ধির হারকে বাড়িয়ে দেখাতে জিডিপি মাপার ফিতেই বদলে দিয়েছে মোদী সরকার। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষের পূর্বাভাস সত্যি হলে, সেই নতুন হিসেবের নিয়মেও নিজেদের জমানায় মাত্র এক বারই ৮ শতাংশের গণ্ডি ছাড়াতে পারবে তারা। সেই ৮%, যা সহজেই ছোঁয়া সম্ভব বলে গত লোকসভা ভোটের আগে স্বপ্ন ফেরি করতেন নরেন্দ্র মোদী। সেই কক্ষপথ থেকে বিচ্যুতির জন্য দুষতেন মনমোহন সরকারের দুর্নীতি আর নীতি পঙ্গুত্বকে!

সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক প্রকাশিত  পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭.২%। যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাসের (৭.৪%) থেকেও কম।

কেন্দ্রের দাবি, গত বারের  বৃদ্ধির (৬.৭%) তুলনায় এ বার পূর্বাভাস অনেকটাই বেশি। সে ক্ষেত্রে ধরে রাখা যাবে দ্রুততম বৃদ্ধির দেশের তকমাও। শুধু তা-ই নয়, মূলত কৃষি ও উৎপাদন ক্ষেত্রের উন্নতির কারণেই মাথা তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বৃদ্ধি। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৩.৮%। গত বছর যা ছিল ৩.৪%। উৎপাদন ক্ষেত্রেও ৮.৩% বৃদ্ধির সম্ভাবনা। ২০১৭-১৮ সালে যা ছিল মাত্র ৫.৭%।

কিন্তু প্রশ্ন

• কেন্দ্রের এই পূর্বাভাস রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (৭.৪%) থেকেও কম।
• প্রথম দফার ইউপিএ সরকারে বৃদ্ধির হার ছিল চাঙ্গা। পুরনো হিসেবে ২০০৫-০৬ থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবর্ষে  তা ঘোরাফেরা করেছে ৮ থেকে ৯.৫ শতাংশে। নতুন হিসেবেও  ৭.৭ শতাংশের নীচে নামেনি। মোদী সরকারের সেই সাফল্য কোথায়?
• দিল্লির তখ্‌ত দখলের আগে ৭-৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে জলভাত বলে দাবি করতেন মোদী। পাঁচ বছরে সেই ৮% দূরের গ্রহ থেকে গেল কেন?
• গত লোকসভা ভোটে মোদীর দাবি ছিল, মনমোহন সরকারের দুর্নীতি আর নীতি পঙ্গুত্বেই বসে যাচ্ছে বৃদ্ধির চাকা। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে ‘চৌকিদারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারে’ বৃদ্ধি শ্লথ কেন?
• দিল্লির মসনদ দখলের লক্ষ্যে গত বার বছরে দু’কোটি কাজ তৈরির স্বপ্ন ফেরি করতেন মোদী। দাবি করতেন, ভাল বৃদ্ধির হারই তার চাবিকাঠি। এ বার ভোটে বৃদ্ধির যে রিপোর্ট কার্ড তাঁর হাতে থাকবে, সেটি আর তেমন জুতসই হবে কি?
• মনমোহন সিংহ থেকে শুরু করে রঘুরাম রাজন— সকলের মতেই নোটবন্দি আর জিএসটির জোড়া ধাক্কা কাবু করেছে বৃদ্ধিকে। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে জোর গলায় তা অস্বীকার করা কেন্দ্রের পক্ষে সম্ভব হবে কি?  

কিন্তু তেমনই দেখা যাচ্ছে, খনন, পরিবহণ, যোগাযোগের মতো বেশ কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কমতে পারে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন, চড়া বৃদ্ধির হারে ভর করেই তো আগের বার বছরে দু’কোটি চাকরির স্বপ্ন ফেরি করেছিলেন মোদী। বৃদ্ধির এই রঙচটা ছবিকে হাতিয়ার করে এ বার আর তা করা যাবে কি?

আরও পড়ুন: হ্যালকে বন্ধ করাই মোদীর চক্রান্ত: রাহুল