সরকারি নির্দেশে এপ্রিল থেকে রাজ্যে আধার নথিভুক্তির বেসরকারি কেন্দ্রগুলি বন্ধ হওয়ার কথা। বদলে সেই কাজ হবে ব্যাঙ্ক, ডাকঘরের বিভিন্ন শাখায়। সেই ব্যবস্থা চালুও হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিতর্ক দানা বেঁধেছে বিকল্প ব্যবস্থাটি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, রাজ্য কিছু শিবির পরিচালনার দায়িত্ব না নিলে আধার নিয়ে নতুন করে জট পাকাতে পারে।

ইউআইডিএআই বা আধার কর্তৃপক্ষের আওতায় শিবিরের দায়িত্ব নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও রাজ্য, দু’পক্ষেরই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ওই দায়িত্ব নিলেও, রাজ্য নেয়নি।

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের সংস্থা সিইএসসিএসপিভি-র প্রায় ১৬০০টি তথ্যমিত্র কেন্দ্র এ রাজ্যে ওই শিবির চালাচ্ছিল। সোমবার সেগুলির সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, স্বনির্ভর হতে অনেকেই লক্ষাধিক টাকা লাগিয়ে এই ব্যবসায় নেমেছেন। কেন্দ্রগুলি বন্ধ হলে তাঁরা তো ব্যবসা হারাবেনই, কাজ খোয়াবেন বহু কর্মী।

রাজ্যে সংস্থাটির কর্তা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নির্দেশ ফেরাতে আধার কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানিয়েছি। রাজ্যকেও রেজিস্ট্রার হওয়ার আবেদন করেছি।’’ রাজ্য অবশ্য পুরনো অবস্থানেই অনড়।

আধার কর্তৃপক্ষের দাবি, নথিভুক্তি নিখরচায় হয়। অথচ বহু বেসরকারি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চড়া ফি নেওয়া ও তথ্য সুরক্ষিত না রাখার অভিযোগ উঠছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশ, ৩১ মার্চের মধ্যে ওই সব কেন্দ্র বন্ধ করে শুধু ডাকঘর ও সব ব্যাঙ্কের ১০% শাখায় চালু করতে হবে। রাজ্যকে আধার কেন্দ্র চালুর আর্জি জানিয়েছে তারাও। তবে অরূপবাবু ও শ্যামলবাবুর দাবি, তথ্যমিত্র কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন হয়নি।

শুধু ব্যাঙ্ক-ডাকঘরে নথিভুক্তি হলে শিবিরের সংখ্যাও কমবে। ইউআইডিএআইয়ের দাবি, রাজ্যে প্রায় ৯৬% নথিভুক্তি হয়ে গিয়েছে। ফলে কমেছে শিবিরের প্রয়োজনীয়তা।