দেশের সবচেয়ে পুরনো ওয়াগন নির্মাতা সংস্থা বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বন্ধ করা যাবে না বলে গত ১৩ মে নির্দেশ দেয় জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনালের আপিল আদালত (এনসিএলএটি)। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে রেল বোর্ড। সূত্রের খবর, সংস্থাটিকে বন্ধ করার জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, আপিল আদালতের রায়ে কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন বার্ন কর্তৃপক্ষ। আইনের দিক দিয়ে সেই ব্যাখ্যা কতটা টিকবে সেটাই রেল বোর্ড খতিয়ে দেখছে। 

বার্ন বন্ধ করার জন্য রেজ়লিউশন প্রফেশনালের পেশ করা প্রকল্পে গত বছরের ৬ মার্চ অনুমোদন দিয়েছিল জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনালের (এনসিএলটি) কলকাতা বেঞ্চ। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনসিএলএটিতে যায় বার্ন স্ট্যান্ডার্ড এক্স অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড এক্স এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সার্ভিসেস নামে একটি পাওনাদার সংস্থা। গত ১৩ মে এনসিএলটির কলকাতা বেঞ্চের নির্দেশকে আংশিক খারিজ করে এনসিএলএটি। পাশাপাশি জানায়, ছাঁটাই করা চলবে না কোনও কর্মীকে। 

বার্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এনসিএলএটির রায়ের কয়েকটি বিষয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ। এর মধ্যে প্রধান হল কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি। ওই সূত্রটির ব্যাখ্যা, এনসিএলএটি বলেছে কোনও কর্মীকে ছাঁটাই করা চলবে না। অথচ গত বছর ৬ মার্চ যে পরিকল্পনা এনসিএলটির কলকাতা বেঞ্চ অনুমোদন করেছিল, তাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনও উল্লেখ ছিল না। 

ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, সমস্ত কর্মীকে স্বেচ্ছাবসর দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়াও হয়। ৫৭ জন কর্মী স্বেচ্ছাবসর নিতে অস্বীকার করেন। কেন্দ্রের অনুমোদনক্রমে তাঁদের ছাঁটাই করা হয়। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, যে সব কর্মীকে স্বেচ্ছাবসর দেওয়া হয়েছে, তাদেরই কি ছাঁটাই কর্মী হিসাবে উল্লেখ করতে চেয়েছে আপিল আদালত? 

তা ছাড়া দেউলিয়া বিধি অনুসারে কোনও সংস্থা গোটানোর আগে পরিকল্পনা আহ্বায়ন করা জরুরি। এনসিএলএটি বলেছে, বার্নের ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনও পরিকল্পনা আহ্বায়ন করা হয়নি। কিন্তু বার্ন সূত্রের বক্তব্য, সংস্থাটি এনসিএলটিতে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ওই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। আর তা করা হয়েছিল এনসিএলটির নির্দেশ মেনেই।