ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফসি) সমস্যা যে গুরুতর, তা আগেই মেনেছে কেন্দ্র। আইএল অ্যান্ড এফএস কাণ্ডের পরে বাজারে যে নগদের সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে মাঠেও নেমেছে খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু এনবিএফসিগুলিকে আর নতুন করে ঋণে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করে দিতে শীর্ষ ব্যাঙ্ক রাজি নয় বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর। 

সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মনে করছে সামগ্রিক ভাবে এই শিল্পে পুঁজির সমস্যা নেই। বরং কয়েকটি বড় সংস্থা, যারা সাধ্যের বাইরে গিয়ে ধার দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নগদের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ফলে সামগ্রিক ভাবে এনবিএফসি শিল্পকে এখনই ঋণের বিশেষ সুবিধা করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই গত বছরের শেষ থেকে বাজারে নগদ জোগান বাড়ানোর জন্য টানা বন্ড এবং ডলার কিনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। 

অগস্টে আইএল অ্যান্ড এফএসের সমস্যা সামনে আসার পর থেকেই এনবিএফসির আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তা আরও জোরালো হয়েছে দিওয়ান হাউসিং ফিনান্সের ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরে। সূত্রের খবর, নগদের সমস্যায় জেরবার সংস্থা ইতিমধ্যেই নতুন করে আমানত নেওয়া বন্ধ করেছে। এমনকি জমা টাকা মেয়াদ শেষের আগে তুলে নেওয়া যাবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এই পরিস্থিতিতে সব মিলিয়ে এই শিল্পকে ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ব্যাঙ্কগুলি। ফলে তারা টাকা জোগাড় করতে সমস্যায় পড়ছে। আবার পুঁজিতে টান পড়ায় নতুন করে ধারও দিতে পারছে না এনবিএফসিগুলি। তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা লগ্নিকারীদের ফেরত দিতে হবে ওই সব সংস্থাকে। সেই টাকা কী ভাবে জোগাড় করা সম্ভব, তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।

এই সমস্যার মধ্যেই কয়েক দিন আগে কর্পোরেট বিষয়ট সচিব ইনজেতি শ্রীনিবাস দাবি করেছিলেন, সংস্থাগুলির ঋণ পেতে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু ধার বেশি দিচ্ছে তারা। জোর দিচ্ছে কোনও একটি ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে সম্পদের তুলনায় দায় বেশি। আবার কিছু ক্ষেত্রে খুব বড় সংস্থাগুলির পরিচালনাতেও ত্রুটি রয়েছে। সব মিলিয়ে এই শিল্প ঘিরের সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইডির তল্লাশি: আইএল অ্যান্ড এফএস গোষ্ঠীর আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই সূত্রে বুধবার মুম্বইয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাল তদন্তকারী সংস্থাটি। কমপক্ষে চার ডিরেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিছু নথিও।