অস্থির অবস্থা বিশ্ব জু়ড়ে।

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বসানো চড়া শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণায় ক্ষুব্ধ বহু দেশ। হুঙ্কার ছেড়েছে চিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অনেক দেশই মার্কিন পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক বসানোর কথা ভাবছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আমেরিকার সঙ্গে অন্য বাদবাকি দেশের অর্থনৈতিক সংঘাতের পথ তৈরি হচ্ছে।

এই আশঙ্কায় অন্যান্য দেশ তো বটেই, শেয়ার সূচক নেমেছে মার্কিন মুলুকেও। বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা, চড়া শুল্ক বসলে কাঁচামাল হিসেবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের দাম অনেকটাই বাড়বে সেখানে। ফলে ক্ষতি হতে পারে মার্কিন শিল্পেরই। আমেরিকায় মোট ইস্পাত আমদানির মাত্র ২% হয় ভারত থেকে। ফলে প্রত্যক্ষ ভাবে বড় আঘাত হয়তো ভারতে পৌঁছবে না। কিন্তু পরোক্ষ আঘাত লাগবেই।

আরও পড়ুন: খেলাপ জানাক সংস্থাই, চায় সেবি

বাজারকে নাড়া দেওয়ার মতো খবর আছে দেশের ভিতরেও। জমায় সুদ বাড়িয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক। এই পথে অন্য অনেক ব্যাঙ্কই হাঁটছে। অনেক দিন ধরে নামার পরে সুদের হঠাৎ এই ‘ইউ টার্ন’ সুদনির্ভর মানুষের জন্য ভাল খবর হলেও, শিল্প ও বাজারের জন্য শুভ সংবাদ নয়। জমায় সুদ বাড়ায় তা বাড়ছে ঋণেও। ফলে শিল্পঋণ ছাড়াও সুদ বাড়তে পারে বাড়ি, গাড়ি ঋণ। জমায় সুদ বাড়লে ‘ইল্ড’ বাড়ানোর তাগিদে পড়তে পারে বন্ডের দাম।

এই অস্থির পরিস্থিতিতেও ভাল খবর হল, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৭.২% আর্থিক বৃদ্ধি। যা প্রত্যাশার তুলনায় ও চিনের থেকে বেশি। আশা, সারা বছরে বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬.৬%। ২০১৬-’১৭ সালে তা ছিল ৭.১%।

উত্তর-পূর্বের রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্য কেন্দ্রের হাত শক্ত করবে। বছরের শেষ তিন মাসেও সংস্থার ফল ভাল হলে অস্থিরতা কাটিয়ে সূচক আবার নতুন উচ্চতা পাবে বলে আশা। অর্থাৎ বড় মেয়াদের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি পতনে ইকুইটিতে লগ্নি চালানোই যায়।

তবে আশার পাশাপাশি আশঙ্কার দিকগুলিও দেখে নেওয়া উচিত—

•  রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে অনাদায়ী ঋণ এখনও বিপুল। আরও জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা।

•  রাজকোষ ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রার ১১৩.৭ শতাংশে পৌঁছনো। ১০ মাসে ঘাটতি ৬.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা।

এপ্রিল থেকেই আবার শেয়ারে বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি মুনাফায় চালু হবে মূলধনী লাভকর। মার্চে বাজার একটু তেতে উঠলে অনেকেই সেই সুযোগে করমুক্ত লাভ ঘরে তোলায় ব্যস্ত হতে পারেন। এই চাপ আবার মাসের শেষে টেনে নামাতে পারে বাজারকে।