চা পর্ষদের নির্দেশে প্রায় দু’মাস বন্ধ থাকার পরে আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই খুলল শীতকালীন নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ থাকা উত্তরবঙ্গের সমস্ত চা বাগান। শুরু হল পাতা তোলা। কারখানায় তা থেকে নতুন মরসুমে চা তৈরিও চালু হবে শীঘ্রই। অর্থডক্স ও গ্রিন টি তৈরিতে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা উঠেছে দু’দিন আগে। তবে সেগুলির হাতে গোনা কিছু বাগান খুলেছে। আজ সিটিসি ও ক্ষুদ্র বাগানের পাতা তোলার উপরে নিষেধাজ্ঞা ওঠায় সব বাগানেই পুরোদস্তুর পাতা তোলা শুরু হচ্ছে।

প্রতি বছর মাঝ ডিসেম্বর থেকে মাস দুয়েক বাগান ও কারখানাগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকার কথা। কারণ, ওই সময় পাতার উৎপাদন কমে। যেটুকু হয়, তা-ও নিম্নমানের। ফলে ভাল হয় না তার থেকে তৈরি চায়ের স্বাদ-গন্ধ। যা বাজারে পুরনো মজুত ভাল চায়ের সঙ্গে মিশলে সেগুলিরও মান খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে মার খায় দাম। এটা রুখতেই বাগান বন্ধে এ বার কড়া হয়েছিল টি বোর্ড। ১৫ ডিসেম্বর থেকে এ রাজ্যের সব বাগান বন্ধের নির্দেশ দেয় তারা।

সম্প্রতি বোর্ডের বিশেষজ্ঞ কমিটি বিভিন্ন বাগান পরিদর্শনে গিয়ে গাছে নতুন (ফার্স্ট ফ্লাশ) পাতা দেখে এসেছে। বোর্ডের ডিরেক্টর (টি ডেভেলপমেন্ট) এস সুন্দরারাজন জানান, সব বাগানই আজ খুলবে।

পর্ষদের হিসেব, বাগান বন্ধ থাকায় এ বার ২.৫ কোটি কেজি চা কম আসবে বাজারে। অনেকের আশঙ্কা, এতে দাম বাড়তে পারে চায়ের। তবে অনেকে বলছেন, বাগান বন্ধের সময় থেকেই খুচরো বাজারে দাম খানিকটা বেড়েছে। এ বার নতুন মরসুমে চায়ের কাপে চুমুক দিতে ক্রেতাকে বাড়তি কত গুনতে হয়, সেটাই দেখার।